এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি গিয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে! সম্প্রতি ইরানের এক শীর্ষ নেতা এমন হুমকি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড়সড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে খোরামশর ফাইভ নামের ক্ষেপণাস্ত্র। আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি মূলত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
কিছুদিন আগে ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায় বিশাল এক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। যদিও ভিডিওটি ২০২৩ সালের খোরামশর ফোর-এর, কিন্তু এর সম্ভাবনা ঘিরেই নতুন আলোচনা শুরু হয়।
সূত্র বলছে, খোরামশর ফাইভ ইরানের প্রথম ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) হতে পারে। এর পাল্লা প্রায় ১২,০০০ কিলোমিটার—যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০,০০০ কিলোমিটার (মার্ক ১৬), যা হাইপারসোনিক প্রযুক্তির ইঙ্গিত দেয়।
২০১৫ সালে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে না। কারণ, তাদের মতে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এখন ইরানকে সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিবিএম তৈরি করা সহজ নয়। ক্ষেপণাস্ত্রকে মহাকাশে পাঠানো, বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করানো এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য জটিল প্রযুক্তির দরকার হয়। তাপ, মহাকর্ষ ও গতি—সবকিছুরই নিখুঁত হিসাব করতে হয়।
খোরামশর ফাইভ-এর ওয়ারহেড প্রায় দুই টন। এটি অনেক দেশের পারমাণবিক ও বাংকার-ধ্বংসী বোমার সমান শক্তিশালী। তবে পাল্লা যত বাড়বে, ওয়ারহেড বহনক্ষমতা তত কমে যেতে পারে। ইরান এরই মধ্যে হাইপারসোনিক ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দেখিয়েছে যে তারা উন্নত তাপ-প্রতিরোধী উপাদান এবং নিখুঁত গাইডিং সিস্টেম তৈরি করতে সক্ষম।
এখনও পর্যন্ত খোরামশর ফাইভ নিয়ে সরকারি কোনো ঘোষণা নেই। তবে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসির জাদে জুন মাসে জানিয়েছিলেন, তারা দুই টনের ওয়ারহেড সফলভাবে হাইপারসোনিক গতিতে পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে। অনেকে মনে করছেন, এটাই খোরামশর ফাইভ-এর প্রাথমিক রূপ।
এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান আর শুধু আঞ্চলিক খেলোয়াড় নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা মানচিত্রে নতুন এক বড় শক্তি হয়ে উঠছে।