ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ট্রাফিক মামলায় জরিমানা মাফ করে দেওয়া সেই দয়ালু বিচারক আর নেই! ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস নিলেন ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম

ট্রাফিক মামলায় জরিমানা মাফ করে দেওয়া সেই দয়ালু বিচারক আর নেই! ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস নিলেন ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও

ইউটিউব আর ফেসবুকে কোটি কোটি মানুষ যাঁকে চিনতেন ‘দয়ালু বিচারক’ নামে, সেই ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও আর বেঁচে নেই। রোড আইল্যান্ডের জনপ্রিয় এই মার্কিন বিচারক ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ৮৮ বছর বয়সে মারা গেলেন। তাঁর রসিকতা, সহানুভূতি আর মানবিক রায়ের ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, আর মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল।

বিশ্বজুড়ে ‘সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও আর নেই। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ৮৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ক্যাপ্রিও মূলত বিখ্যাত হয়েছিলেন টিভি অনুষ্ঠান Caught in Providence–এর মাধ্যমে। আদালতের বেঞ্চ থেকে দেওয়া তাঁর রসিকতা, সহমর্মিতা আর মানবিক রায় বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছিল। ছোটখাটো অপরাধ বা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলায় তিনি প্রায়ই জরিমানা মওকুফ করতেন, কখনো আবার হাস্যরসের মাধ্যমে আসামিদের উৎসাহ দিতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব ভিডিও শত কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ছোট ভিডিওগুলোতে দেখা যেত—ক্যাপ্রিও মন দিয়ে মানুষের গল্প শুনছেন, কখনো শিশুদের বিচারকের আসনে বসিয়ে মা–বাবার বিচার করতে দিচ্ছেন। তাঁর এই মানবিক আচরণ তাঁকে বিশ্বব্যাপী অগণিত ভক্ত এনে দিয়েছিল।

ক্যাপ্রিও একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আইন সবার জন্য সমান হলেও বাস্তবে আমেরিকার প্রায় ৯০ শতাংশ সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা, উচ্ছেদ বা ট্রাফিক মামলার মতো ক্ষেত্রে কোনো আইনি সহায়তা ছাড়াই লড়াই করে।” আর তাই তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন—দয়া, ন্যায্যতা আর সহানুভূতির মধ্য দিয়েই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

রোড আইল্যান্ডের গভর্নর ড্যান ম্যাককি এক বিবৃতিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “বিচারক ক্যাপ্রিও শুধু আইন প্রয়োগকারী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতার প্রতীক।”

চার দশকেরও বেশি সময় বিচারকের দায়িত্ব পালনের পর ২০২3 সালে অবসর নেন ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও। তবে অবসর নেওয়ার পরও তাঁর মানবিকতা ও দয়ার গল্প কোটি মানুষের মনে বেঁচে আছে। মৃত্যুর পরও তিনি থেকে যাবেন মানুষের হৃদয়ে ‘বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ হয়ে।