এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের অব্যাহত আগ্রাসন এবং গাজাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরাইল’ স্বপ্ন ও ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরতাকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে রিয়াদ।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্ডস গাজায় নতুন সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিয়ে ৬ লাখ রিজার্ভ সেনা ডাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ও আইনি অধিকারকে সৌদি সর্বাত্মক সমর্থন দেবে। একই সঙ্গে জেরুজালেমের আশপাশে নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদনেরও তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিয়াদ বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। ইসরাইলকে দখলদার ঘোষণা করে নেতানিয়াহুর অপরাধ ঠেকানো এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরাইল’ পরিকল্পনা। সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকাশিত নীলনকশায় দেখা যায়, শুধু গাজা ও পশ্চিম তীর নয়—জর্ডান, সিরিয়া ও মিশরের ভূখণ্ডও এর আওতায় আনার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, থার্ড টেম্পল গড়ার যে পরিকল্পনা নেতানিয়াহু সামনে এনেছেন, সেটি আসলে গ্রেটার ইসরাইল প্রকল্পেরই অংশ।
তবে আরব দুনিয়া চুপ করে নেই। ইতিমধ্যেই মিশর সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে, আর জর্ডান ঘোষণা দিয়েছে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের। ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়নের পরিকল্পনা কোনোভাবেই মেনে নেবে না আরব বিশ্ব। নিজেদের ভূখণ্ড ও শরণার্থীদের সুরক্ষায় দুই দেশ সরাসরি সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।