এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
গাজায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের মুখে ইসরাইলি সৈন্যরা চরম চাপের মুখে পড়েছে। যদিও বিদেশি ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবুও ফিলিস্তিনের রেজিস্টেন্স ফোর্স এবং সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযান ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। টানা অবরোধ ও দুর্ভিক্ষের মাঝেও সপ্তাহে অন্তত কয়েকটি বড় প্রতিরোধমূলক অভিযান চালাচ্ছে ফিলিস্তিনের যোদ্ধারা। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, মার্কিন সাহায্য ছাড়া গাজা দখল এখন ইসরাইলের পক্ষে কঠিন হয়ে গেছে।
১৭ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছে, খান ইউনিস ও দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি অবস্থান ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে। হামাসের আলকাসসাম ব্রিগেডও ইসরাইলি সৈন্য ও যানবাহনকে লক্ষ্য করে রকেট লঞ্চারের মাধ্যমে সফল অভিযান চালানোর ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ইসরাইলি সেনাপ্রধান গাজা শহর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী কারস এটি অনুমোদন করবেন। এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে, খবরটি জানিয়েছে ইসরাইলি চ্যানেল ১২।
নিজ সৈন্যদের মনোবল বাড়ানোর জন্য গাজা শহরের কেন্দ্রস্থলে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে বোমা ফেলে উড়িয়ে দেওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছে ইসরাইলি বাহিনী। আইডিএফ জানিয়েছে, মধ্য ইসরাইল ও উত্তর নেতানিয়া থেকে দক্ষিণে আশোদ পর্যন্ত বিভিন্ন বসতি জুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে, যার ফলে আকাশ সীমা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া, পাঁচ মাস আগে গাজায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ইয়েমেন থেকে প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা প্রতি দুই দিনে একটি করে হচ্ছে।
অন্যদিকে, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তির দাবিতে তেল আবিবে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশ করেছে। সমাজ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। একদল দাবী করছে,
“প্রথমে বন্দি ফিরিয়ে আনি, তারপর মূল কাজ করব। যুদ্ধের নামে ভণ্ডামি চলবে না।”
অন্যদল বলছে, “হামাস নির্মূল করে গাজা দখল করতে হবে। দুর্বল ইসরাইল কখনোই বন্দি মুক্তি দিতে পারবে না।”
এই বিক্ষোভের জবাবে নেতানিয়াহু বলেছেন, “যারা হামাসকে পরাজিত না করে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে, তারা নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করছে। এতে আমাদের জিম্মিদের মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে এবং ৭ অক্টোবরের ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, ফলে একটি অন্তহীন যুদ্ধ লড়তে হবে।