ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলে ধ্বংসযজ্ঞ নামাতে প্রস্তুত ইরান, ইসরায়েল-আমেরিকা এবার বড় বিপদে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

ইসরায়েলে ধ্বংসযজ্ঞ নামাতে প্রস্তুত ইরান, ইসরায়েল-আমেরিকা এবার বড় বিপদে

ইরান আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড়সড় আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাম্প্রতিক ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এবার আরও ভয়ঙ্কর ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে তেহরান। এতে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে টানা ১২ দিন তীব্র সংঘাতে কেঁপে উঠেছিল গোটা বিশ্ব। ১৩ জুন বিনা উস্কানিতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শত শত সাধারণ মানুষ নিহত হন। এর জবাবে ইরান ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসোনিক মিসাইল ছুড়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে। এতে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে তেলআবিব। ইসরায়েলের আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার কিছুটা প্রাণহানি রোধ করলেও বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।
২৪ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুরু থেকেই সন্দিহান ছিল তেহরান। ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, এটা আসল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং কেবল সাময়িক বিরতি মাত্র। সেই কারণেই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

২০ আগস্ট বুধবার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসির জাদেহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “গত যুদ্ধে আমরা যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছি, তা ছিল পুরনো প্রযুক্তি। এখন ইরানের হাতে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যদি জায়নবাদী শত্রু আবার কোনো ভুল করে, তবে এবার সেই ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করা হবে।”

এর আগে ইরানের উপরাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজারে বলেছিলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধবিরতিতে নেই, কেবল শত্রুতা বন্ধের পর্যায়ে আছি। ইরানকে প্রতিটি মুহূর্তে যুদ্ধে নামার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তবে তা আগের থেকেও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। শুধু ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। আর তাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় কেঁপে উঠবে।