ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ফিলিস্তিনপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু করতে এআই ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র: যা জানালো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

ফিলিস্তিনপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু করতে এআই ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র: যা জানালো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্যালান্টিয়ার ও বেবেল স্ট্রিট নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে অভিবাসীদের নজরদারি করছে। বিশেষত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এএফপি জানিয়েছে, অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা DHS-এর প্রকাশিত নথি প্রমাণ করে, এ সফটওয়্যারগুলো গণনজরদারি চালাচ্ছে এবং অ-আমেরিকানদের ওপর বিশেষ নজর রাখছে।

অ্যামনেস্টির কর্মকর্তা গেভারা-রোসাস বলেছেন, “মার্কিন সরকার গণনির্বাসন নীতি ও ফিলিস্তিনপন্থী মতপ্রকাশ দমন অভিযানের নামে অধিকারবিরুদ্ধ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটি অভিবাসী সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।”
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিভোক’ উদ্যোগের মাধ্যমে শরণার্থী, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের নজরদারি করছে। এই উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং, ভিসা পর্যবেক্ষণ ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের হুমকি মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত।

গেভারা-রোসাস আরও বলেন, “বেবেল এক্স ও প্যালান্টিয়ারের ইমিগ্রেশন সিস্টেমগুলো যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দমননীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদি এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করতে না পারে যে তাদের প্রযুক্তি মানবাধিকার রক্ষায় সাহায্য করছে, তবে তাদের অবিলম্বে কাজ বন্ধ করা উচিত।”
অ্যামনেস্টি আশঙ্কা করছে, এই এআই নজরদারি ব্যবস্থা ট্রাম্পকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নির্বিচারে বহিষ্কারের ক্ষমতা দিতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে টার্গেট করছেন। হোয়াইট হাউস গাজা যুদ্ধের বিরোধিতা করা ক্যাম্পাস বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘটকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যায়িত করেছে এবং এতে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থী ও অধ্যাপকদের বহিষ্কারও করেছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন—বিশেষ করে বিদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণ—কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।