ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

উত্তর কোরিয়ার গোপন ঘাঁটি, পূর্ব এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

উত্তর কোরিয়ার গোপন ঘাঁটি, পূর্ব এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি!

উত্তর কোরিয়া চীনের সীমান্তের কাছে একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, এখানে পিয়ংইয়ং-এর সর্বশেষ দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষিত থাকতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা CSIS বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই ঘাঁটির নাম ‘সিনপুং-ডং মিসাইল অপারেটিং বেস’। চীনের সীমান্ত থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে, উত্তর পিয়ংআন প্রদেশে অবস্থিত এটি। বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখানে ৬ থেকে ৯টি পারমাণবিক সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা ICBM ও তাদের লঞ্চার রাখা হয়েছে।

এই ঘাঁটিকে পূর্ব এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যর্থ শীর্ষ বৈঠকের পর থেকে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করেছে। সম্প্রতি দেশটির নেতা কিম জং-উন দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিনপুং-ডং ঘাঁটি উত্তর কোরিয়ার ১৫-২০টি অঘোষিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও মিসাইল ও ওয়ারহেড সংরক্ষণাগারের অংশ। এগুলোর কোনোটি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র–উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই ঘাঁটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র গোপনে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব, যা দেশের অন্যান্য অংশের সাথে যুক্ত হয়ে কার্যকর হতে পারে।

২০১৯ সালে ভিয়েতনামে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-উনের বৈঠক ভেঙে গিয়েছিল। সেই সময়ই উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দেয় যে তারা কখনোই তাদের অস্ত্র ত্যাগ করবে না এবং অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর উত্তর কোরিয়া মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করছে, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় ১০,০০০-এরও বেশি সেনা পাঠিয়েছে, মূলত কুর্স্ক অঞ্চলে। সঙ্গে পাঠানো হয়েছে গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র ও দীর্ঘপাল্লার রকেট সিস্টেম।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও আইসিবিএম প্রযুক্তি প্রায় একই, তাই রাশিয়ার সহায়তা দিয়ে উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক ও মহাকাশ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছে।