ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

মহাকাশে যুদ্ধ! পুতিনের রাশিয়া হাইজ্যাক করল ইউক্রেনের স্যাটেলাইট


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

মহাকাশে যুদ্ধ! পুতিনের রাশিয়া হাইজ্যাক করল ইউক্রেনের স্যাটেলাইট

এবার যুদ্ধ গড়াল মহাকাশে! রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যখন ৯ মে মস্কোর রেড স্কোয়ারে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অভিবাদন নিচ্ছিলেন, তখনই ক্রেমলিনের হ্যাকার টিম চালিয়ে ফেলল এক নজিরবিহীন অপারেশন। তারা কক্ষপথে ঘুরতে থাকা ইউক্রেনের টিভি সম্প্রচারকারী একটি স্যাটেলাইট হাইজ্যাক করে নেয়। এর ফলে ইউক্রেনের দর্শকরা নিজেদের চ্যানেলে হঠাৎ করেই দেখতে পান রাশিয়ার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মহাকাশ যুদ্ধের ইতিহাসে একেবারেই নতুন ও ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ। এতদিন যুদ্ধ হয়েছে জল, স্থল আর আকাশে, কিন্তু এবার সরাসরি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ছে সংঘাত।

রাশিয়া এই হামলায় দেখিয়ে দিয়েছে—ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ছাড়াই কীভাবে শত্রুর মনস্তত্ত্ব ভেঙে দেওয়া যায়। কয়েক ঘণ্টার জন্য বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ, এমনকি সেনারাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে ১২ হাজারেরও বেশি সক্রিয় স্যাটেলাইট ঘুরছে। এগুলো শুধু যোগাযোগ, সম্প্রচার বা আবহাওয়ার কাজে নয়—সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, জিপিএস নেভিগেশন—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, এমন স্যাটেলাইট ছিনতাই পুরো এক দেশের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিকে থামিয়ে দিতে পারে।

আসলে এই আশঙ্কা অনেক আগেই বুঝেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাই ২০১৯ সালে তারা গঠন করে “স্পেস ফোর্স”—যা মার্কিন স্যাটেলাইট রক্ষা এবং মহাকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে। এই বাহিনী পরিচালনা করে এক্স-৩৭বি নামে একটি বিশেষ মানববিহীন মহাকাশযান, যা বছরের পর বছর গোপন সামরিক মিশনে থাকতে পারে।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি নাসা ঘোষণা করেছে চাঁদে একটি ক্ষুদ্র পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বসানোর পরিকল্পনা। এর আগে চীন ও রাশিয়া একই পরিকল্পনা জানিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদে থাকা হিলিয়াম–৩ ভবিষ্যতে পরমাণু শক্তির বিশাল উৎস হতে পারে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—স্থলভাগে যুদ্ধের পর কি তবে ভবিষ্যতের আসল সংঘাত গড়াবে মহাকাশে?