এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
বিয়ে ঘিরে আনন্দ-উৎসব, বাড়িতে সাজসাজ রব—সবকিছু মুহূর্তেই ভেসে গেল ভয়াবহ বন্যায়। মালয়েশিয়া প্রবাসী নূর মোহাম্মদ দেশে ফিরেছিলেন বিয়ে করতে, কিন্তু বিয়ের আসর বসানোর বদলে তাকে পড়তে হলো নিজের মা-সহ পরিবারের ২৪ জনের জানাজা।
মাত্র দুইদিন পর ছিল তার বিয়ে। সেই খুশির খবর মায়ের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আড্ডায় শেয়ার করেছিলেন নূর। কয়েক ঘণ্টা পরই কাদির নগর গ্রামে নেমে আসে ভয়ংকর বন্যা। সবকিছু তছনছ করে দেয় সেই প্রলয়।
রয়টার্সকে নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমার মা কতটা খুশি ছিলেন, তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।” পরিবারের ৩৬ রুমের বিশাল বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
“কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। বড় বড় পাথর বয়ে এনেছে বন্যার স্রোত। যা সামনে পেয়েছে সব ভেঙে দিয়েছে—বাড়ি, দোকান, মার্কেট কিছুই টিকে নেই,” বলেন তিনি।
নূরের পরিবার থেকে মা, বোন, ভাই, চাচা, দাদা, এমনকি ছোট ছোট শিশুরাও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বিয়ের প্রস্তুতিতে বাড়িতে জড়ো হওয়া আত্মীয়রাও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ভাগ্যক্রমে তার বাবা ও এক ভাই বেঁচে যান—কারণ তারা তখন বিমানবন্দরে তাকে আনতে গিয়েছিলেন।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বুনের বিভাগ ভয়াবহ এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে গত কয়েকদিনে অন্তত ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
নূর মোহাম্মদ ১৫ আগস্ট মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ইসলামাবাদ বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার দিনই তার বিয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্ত পাল্টে যায় ইতিহাসের ভয়াবহতম বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডিতে।
পাহাড়ি অঞ্চলে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও মেঘ বিস্ফোরণের কারণে আকস্মিক এই বন্যা হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পাকিস্তানে প্রাণ গেছে ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষের।