এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
ইরানের দীর্ঘতম নদী এবং একমাত্র নৌযান চলাচলের উপযোগী কারুন নদী এখন ভয়াবহ সংকটে। খরা, নদীর প্রবাহ হ্রাস, রাসায়নিক দূষণ এবং জলাভূমির ক্ষয় এই নদীর স্বাভাবিকতা নষ্ট করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে নদীর বড় অংশ বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
কারুন-৩, কারুন-৪ ও গোতভান্দের মতো বাঁধের কারণে নদীর পানি তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। বহু বছর ধরে ইরানের বাঁধ নীতি অস্থিতিশীল বলে সমালোচিত। পরিকল্পনার চেয়ে স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক স্বার্থ নদীর এই দশার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জলাভূমি বাস্তুতন্ত্র বিশেষজ্ঞ আলী আরভাহি বলেছেন, “নদী সংকটে পড়ার মূল কারণ হলো বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প, ইন্টার-বেসিন পানি স্থানান্তর এবং পানি-নির্ভর ফসলের চাষ।”
কারুন নদীর সাম্প্রতিক প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ১০০ ঘনমিটার, যা আগে ৫০০–৬০০ ঘনমিটার ছিল।
পানি সংকট ও বায়ু দূষণ
খুজেস্তান প্রদেশ আখ চাষের প্রধান কেন্দ্র। ৮০,০০০ হেক্টরের বেশি আখ চাষ থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। সীমিত পানি সম্পদে চরম চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া, প্রদেশটি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বায়ু দূষণের শিকার।
ইরানের এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং সিস্টেম জানিয়েছে, আহভাজে এয়ার কোয়ালিটি স্কোর ১৬৮, হেন্দিজান ১৬৭, বেহবাহান ১৬৩, রামহরমোজ ১৫৬, আন্দিমেশক ও ওমিদিয়াহ ১৫৫। নিরাপদ (সবুজ) স্কোর ০–৫০, তাই এই অঞ্চলের বাতাস অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।
বিরূপ জলবায়ু ও ভবিষ্যৎ
ইরান বর্তমানে তীব্র পানি সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। রিবেশবিদ মনসুর সোহরাবি বলেছেন, “দেশের বেশিরভাগ অংশে খরা দেখা দিতে পারে। অব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতি ত্বরান্বিত হচ্ছে।”
গত এক বছরে গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে, বৃষ্টিপাত ৪৫% হ্রাস পেয়েছে। এতে দেশের মরুকরণ ত্বরান্বিত হচ্ছে।
কারুন নদী জাগ্রোস পর্বতমালা থেকে খুজেস্তান প্রদেশ হয়ে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত ৯৫০ কিলোমিটার বিস্তৃত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে বাঁচাতে হলে এই নদীকেও বাঁচানো একান্ত জরুরি।