ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

পাঁচ মাস ধরে কোন মাংস খায়নি, চার বছরের ছেলে জানে না ফলের স্বাদ কেমন: গাজার এক মায়ের হৃদয়বিদারক কাহিনি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

পাঁচ মাস ধরে কোন মাংস খায়নি, চার বছরের ছেলে জানে না ফলের স্বাদ কেমন: গাজার এক মায়ের হৃদয়বিদারক কাহিনি

গাজার দুর্ভিক্ষে বাস করছে পাঁচ সন্তানের মা, ৪১ বছর বয়সী রীম তৌফিক। তিনি জানালেন, “গত পাঁচ মাস ধরে আমরা কোনো আমিষ খাইনি। আমার ছোট ছেলে, বয়স মাত্র চার বছর, কিন্তু সে জানে না ফলমূল আর সবজির স্বাদ কেমন।”

জাতিসংঘ-সমর্থিত প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো গাজা উপত্যকার কিছু অংশে ‘মানবসৃষ্ট’ দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে স্থানীয়রা ভয়াবহ ক্ষুধার কষ্টের বর্ণনা দিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় খাদ্য ও সহায়তার প্রবেশে ইসরায়েল ব্যাপকভাবে বাধা দিচ্ছে, যা ইসরায়েল অস্বীকার করে।

আইপিসি জানিয়েছে, গাজা শহর ও আশপাশের এলাকায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ এখন “ক্ষুধা, চরম দারিদ্র্য ও মৃত্যুর” ঝুঁকির মধ্যে আছে।

গাজার আরেক বাসিন্দা, ছয় সন্তানের মা রাজা তালবেহ, এক মাস আগে তার বাড়ি ছেড়ে সমুদ্রের ধারে অস্থায়ী তাঁবুতে চলে এসেছেন। তার শরীর শস্য জাতীয় খাবার সহ্য করতে পারে না। যুদ্ধের আগে দাতব্য সংস্থা তাকে গ্লুটেন-মুক্ত খাবার জোগাত, কিন্তু এখন বাজারে কিছুই নেই।

২৯ বছর বয়সী রিদা হিজেহ বলেন, তার পাঁচ বছরের মেয়ে লামিয়ার ওজন ১৯ কেজি থেকে সাড়ে দশ কেজি নেমে গেছে। “যুদ্ধের আগে সে সুস্থ ছিল, এখন পা ফোলা, চুল পড়া ও স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছে। কিছুই খেতে পাচ্ছে না। সবজি নেই, ফল নেই। শিশুরা হাঁটতেও পারছে না।”

ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা ইউকে-মেডের নার্স ম্যান্ডি ব্ল্যাকম্যান জানান, মাতৃত্বকালীন ক্লিনিকে আসা মায়েদের ৭০% গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে। ফলে জন্ম নেওয়া শিশুদের আকার ছোট ও নাজুক।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, অন্তত ২৭১ জন ‘দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে’ মারা গেছে, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু।

গাজার বাসিন্দা আসিল বলেন, “পাঁচ মাস আগে আমার ওজন ৫৬ কেজি ছিল, এখন ৪৬ কেজি। কোনো ফল বা মাংস নেই, বেঁচে থাকার জন্য প্রায় সব সঞ্চয় শেষ করেছি। ননদের এক মাস বয়সী সন্তানকে বাঁচাতে গুঁড়া দুধ কিনছি, যা ৩৯ ইউরো প্রতি ক্যান। খাদ্য মজুদ নেই, আমরা দিন গুণে বেঁচে আছি।”

সেভ দ্য চিলড্রেনের শাইমা আল-ওবাইদি বলেন, “মানুষ এখন এমন পরিস্থিতিতে যেখানে ঘাস বা পাতা খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। শিশুরা বলছে তারা মারা যেতে চায়, যাতে বেহেশতে গিয়ে খাবার খেতে পারে।”

প্রতিবেদনটি তৈরি করতে সহায়তা করেছেন ফ্রেয়া স্কট-টার্নার ও ক্যারোলিন হাওলি।