এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের টানাপোড়েন ঘিরে এবার সরাসরি দিল্লির পাশে থাকার বার্তা দিল চীন।
ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করছে, বেইজিং তা দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করছে। তিনি এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে ‘দাদাগিরি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ
কয়েক দিন আগেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ভারত সফরে এসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ইস্যুতে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরই ভারতের পাশে থাকার এ ঘোষণা এলো।
শিগগিরই সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-র শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যাচ্ছেন চীন। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে প্রশ্ন একটাই— সীমান্তে বিবাদ আর গালওয়ানের মতো ঘটনার ইতিহাস মাথায় রেখে ভারত-চীন কি সত্যিই ‘বন্ধু’ হয়ে উঠতে পারবে?
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ও চীনের প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই প্রসঙ্গ টেনে দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন—
“যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন মুক্ত বাণিজ্য থেকে লাভবান হয়েছে। এখন তারা শুল্ককে অস্ত্র বানাচ্ছে। আমরা এর কড়া বিরোধিতা করি। বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে চীন ভারতের পাশে থাকবে।”
আগেও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সুরে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপের সমালোচনা করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মত
মানব রচনা ইনস্টিটিউটের উপমন্যু বসু মনে করেন, চীনের এই বক্তব্যে স্পষ্ট— বেইজিং ট্রাম্পের নীতি নিয়ে সরব। তবে ভারত এই ইস্যুকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সামলাতে চাইছে।
তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির কারণে ভারত-চীন ঘনিষ্ঠ হবে— এটা বলা বাড়াবাড়ি হবে। আসল সমস্যা সীমান্তে, যা এখনও অমীমাংসিত।”
জিন্দল স্কুলের অধ্যাপক গীতাঞ্জলি সিনহা রায় বলেছেন, “ভারত-চীনের সম্পর্ক সবসময় ‘কনফ্লিক্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন’। নিজেদের স্বার্থে দুই দেশ আলোচনায় বসে। ট্রাম্পের কারণে রাতারাতি ঘনিষ্ঠ হচ্ছে না।”
কোয়াডে প্রভাব?
ভারত-চীনের এই নতুন সমীকরণে ‘কোয়াড’ (ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র) প্রভাবিত হবে কিনা, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোয়াডে জাপানের উপস্থিতি ভারসাম্য রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে এড়ানো সম্ভব নয়
বিশেষজ্ঞরা একমত— শত টানাপোড়েন সত্ত্বেও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে উপেক্ষা করতে পারবে না।
উপমন্যু বসু বলেন, “ট্রাম্পের পরেও দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক থাকবে। তাই ভারতকে কূটনৈতিকভাবে ধৈর্য ধরতে হবে।”
গীতাঞ্জলি রায়ের মতে, ট্রাম্পও ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রমাণ— সার্জিও গোরকে ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।
সত্যিই কি বন্ধু হবে ভারত-চীন?
এখানেই মূল প্রশ্ন।
চীন কি যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হতে পারে?
উপমন্যু বসু মনে করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আসলে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।”
কিন্তু গীতাঞ্জলি রায় একেবারেই একমত নন— “ভারতের কাছে চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প নয়।”
বন্ধুত্বের প্রসঙ্গে বসু সরাসরি বলেছেন—
“ভারত-চীন বেস্ট ফ্রেন্ড হবে, তা সম্ভব নয়। পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের বৈঠকই প্রমাণ করে, দিল্লিকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানাতে তাদের আগ্রহ নেই।”
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের অভিমত— ভারত-চীন সম্পর্ক পুরোপুরি বন্ধুত্বে রূপ নেবে না। তবে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার পথে দুই দেশ এগোতে পারে।