এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পেছনে মার্কিন সামরিক অভিযানের সত্য ফাঁস হতেই বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল ট্রাম্প প্রশাসন। গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ)-এর প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে চাকরি হারিয়েছেন আরও দুই জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুনে, যখন ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনী চালায় এক গোপন অভিযান—‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ফারদো, নাতাঞ্জ ও ইসপাহান শহরের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা। প্রথমে ওয়াশিংটন দাবি করে, হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
কিন্তু বাস্তবে ছবিটা অন্যরকম। ডিআইএর একটি গোপন প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হলেও ইরান দ্রুত তা কাটিয়ে উঠতে পারবে। মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে গেছে তাদের কর্মসূচি। এই তথ্য ফাঁস হতেই হোয়াইট হাউসে চরম অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে।
কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দু’জনেই বারবার দাবি করেছিলেন—“ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত নিশ্চিহ্ন।” অথচ নিজ দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এল ভিন্ন সত্য!
এই বিব্রতকর পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সরাসরি ব্যবস্থা নেন। ২২ আগস্ট তাঁর নির্দেশেই বরখাস্ত করা হয় ডিআইএ প্রধানকে। পাশাপাশি পদচ্যুত হয়েছেন মার্কিন নৌবাহিনীর রিজার্ভ বাহিনীর প্রধান এবং নৌবাহিনীর বিশেষ যুদ্ধ কমান্ডের প্রধানও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের সাফল্য নিয়ে ভিন্ন মত সামনে আসায় ওয়াশিংটন অভ্যন্তরে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।