এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর কাছে আল-মুগাইয়ার গ্রামে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। মাত্র একদিনে গ্রামটিতে উপড়ে ফেলা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি জলপাই গাছ। স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানের অভিযোগ—এটি কেবল গাছ ধ্বংস নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা দখল ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের পরিকল্পনারই অংশ।
প্রায় ৪ হাজার মানুষের বসবাস আল-মুগাইয়ারে। গ্রামের ০.২৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা গাছ উপড়ে ফেলার পাশাপাশি বাড়িঘরও তছনছ করে। স্থানীয়দের দাবি, শনিবার (২৩ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে সেনারা অন্তত ৩০টির বেশি ঘরবাড়ি ও বহু যানবাহন ভাঙচুর করেছে। পুরো গ্রামকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়।
ইসরায়েলি সেনাদের যুক্তি—গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া একটি অবৈধ বসতি সংযোগ সড়ককে নিরাপদ রাখতে এসব জলপাই গাছ সরানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়েছিল।
জলপাই গাছ শুধু ফিলিস্তিনের প্রধান কৃষিজ ফসল নয়, বরং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনীতিরও প্রতীক। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জলপাই গাছ ধ্বংস করছে, যাতে কৃষি ও জমির ওপর নির্ভরশীল ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা যায়।
জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় সংস্থা (OCHA)-র তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পশ্চিম তীরে সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা ২,৩৭০টির বেশি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৮৫টি হামলা রামাল্লাহ অঞ্চলে, আর ৪৭৯টি হামলা নাবলুসে। একই সময়ে নিহত হয়েছেন ৬৭১ জন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে রয়েছে ১২৯ শিশু।
প্যালেস্টাইনি গবেষক হামজা জুবেইদাত বলেন, “১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল একই কৌশল চালাচ্ছে—ফিলিস্তিনিদের জমি ও শহর থেকে উচ্ছেদ করা। আল-মুগাইয়ারে যা ঘটছে, তা সেই একই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আল-মুগাইয়ার একটি কৃষিভিত্তিক গ্রাম। কৃষি ও পশুপালনই এখানকার প্রধান জীবিকা।
যেই উর্বর জমি থেকে তিন হাজারের বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, সেটি ছিল এলাকার সবচেয়ে সমৃদ্ধ কৃষিজমি। এভাবে গাছ ধ্বংস, পানির উৎস দখল ও জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া মানে খাদ্য ও পানির নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলা।”
ঘটনা নিয়ে আল জাজিরার পক্ষ থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি।