এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কে আবারও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ভারতের সমালোচনা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো সম্প্রতি এক মন্তব্যে বলেন, “ভারত এখন ট্যারিফের মহারাজা।” তাঁর অভিযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারত কার্যত রাশিয়ার কাছ থেকে কোনো তেল আমদানি করত না—সর্বোচ্চ এক শতাংশ। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশে। নাভারোর মতে, এভাবে রাশিয়ার তেল কিনে ভারত মূলত রিফাইনিং লাভ ভাগাভাগির ব্যবসা করছে, যা এক ধরনের ‘ক্রেমলিন–সমর্থিত মানি লন্ডারিং’।
তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শংকর এসব অভিযোগ কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা ভারতের জাতীয় স্বার্থের অংশ, এবং বৈশ্বিক স্বার্থেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর দাবি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে।
২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ার্ল্ড লিডার ফোরাম-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শংকর আরও জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় এখনো কিছু “লাল দাগ” বা রেডলাইন রয়েছে, যেখানে ভারত কোনোভাবেই আপস করবে না। একাধিক বৈঠক হলেও এখনো সমঝোতা হয়নি।
মার্কিন সমালোচনার জবাবে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, “যারা বাণিজ্যপন্থী মার্কিন প্রশাসনের হয়ে কাজ করেন, তাদের অন্যের ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ তোলা আসলেই হাস্যকর। যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে সমস্যা থাকে, তারা না কিনলেই পারে। কেউ তো তাদের বাধ্য করছে না।”
ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অনেক দেশ রুশ তেল কেনা বন্ধ করলেও ভারত সেই সুযোগে তুলনামূলক কম দামে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনছে এবং তা প্রক্রিয়াজাত করে রফতানিও করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা আবারও আলোচনায় এসেছে। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এ কারণে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারত কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে।