এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম
ইসরায়েলের নতুন আক্রমণের আগে বিশৃঙ্খলায় ডুবে গেছে গাজা শহর।
মাত্র দুই বছর আগেও গাজার সবচেয়ে বড় এই শহর ছিল সরগরম। স্কুলগুলোতে ভরে থাকত ছাত্রছাত্রী, বাজারে ছিল ক্রেতাদের ভিড়, আর সমুদ্রতীরের ক্যাফেগুলোতে মানুষ খুঁজে পেত অবরুদ্ধ জীবনের বাইরে একটু স্বস্তির মুহূর্ত।
হাজার বছরের ইতিহাস বহন করা এই শহর বহু সভ্যতার সাক্ষী। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি হয়ে উঠেছিল আশ্রয়ের জায়গা। প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান আর সমৃদ্ধ অতীত আজও এর পরিচয়ের অংশ।
২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই শহরকে তারা কার্যত রাজধানী বানায়। এর পর থেকেই সংঘাত, অবরোধ আর হামাসের কঠোর শাসন ফিলিস্তিনিদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। তবে কাতারসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা আর জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম কোনোভাবে ভেঙেচুরে যাওয়া শহরকে টিকিয়ে রেখেছিল।
অন্যদিকে ইসরায়েল ও মিশরের আরোপিত স্থল, আকাশ ও সমুদ্র অবরোধ গাজাকে বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখলেও, শহরে গড়ে ওঠা গোপন চোরাচালান ব্যবস্থা মানুষকে এনে দিত কিছুটা বাইরের স্বাদ।
সব কিছুর পরও একসময় গাজা শহরের ভেতরে পাওয়া যেত আধুনিক জীবনের ছোঁয়া। বেকারত্ব ছিল প্রায় অর্ধেক, হামাসের পুলিশ কঠোর টহল চালাত, কিন্তু তবুও কেউ চাইলে যোগ স্টুডিওতে যেত, কিংবা পার্কে বসে সময় কাটাত, এমনকি ম্যাচা লাট্টে নিয়েও দেখা যেত অনেককে।
আজ সেই শহর আবার দাঁড়িয়ে আছে নতুন যুদ্ধ আর ধ্বংসের দোরগোড়ায়।