ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলের কট্টর মন্ত্রীরা গাজা দখল ও জনগণকে অনাহারে রাখার নির্দেশ দিলো!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

ইসরায়েলের কট্টর মন্ত্রীরা গাজা দখল ও জনগণকে অনাহারে রাখার নির্দেশ দিলো!

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীরা গাজায় চলমান যুদ্ধ কৌশল নিয়ে সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনায় জড়িয়েছেন। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তারা প্রকাশ্যে গাজার মানুষকে অনাহারে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। রোববার এই খবর প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম, চ্যানেল-১২-এর বরাতে আনাদোলু এজেন্সি।

স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংঘাত ঘটে। আলোচ্য বিষয় ছিল ‘অপারেশন গিদিওন’স চ্যারিয়টস–২’। মূলত এটি গাজায় ব্যাপক হামলার পাশাপাশি জনগণকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তোলেন। তিনি সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“আমরা আপনাদের দ্রুত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। তাদের অবরুদ্ধ করুন। যারা সরে যাবে না, তাদের সরতে দেবেন না। পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই—তাদের অনাহারে মরতে দিন বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করুন। আমরা এটাই চাই, আর আপনারা সেটা করতে সক্ষম।”

তবে সেনাপ্রধান জামিরের সঙ্গে তার মতামতের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। জামির সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সামরিকভাবে সম্ভব নয়। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন,
“আমরা খান ইউনিস ও রাফাহেও অভিযান চালাচ্ছি। তাই সময় এবং সুপরিকল্পনা খুব জরুরি।”
এই সময় কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির হস্তক্ষেপ করেন। তিনি জামিরকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি সামরিক অ্যাডভোকেট জেনারেলের ভয়ে আছেন?”

পরবর্তীতে স্মতরিচ জামিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তিনি রাজনৈতিক সরকারের নির্দেশনা মানছেন না। তিনি বলেন, “এটা কি রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা নয়? আপনি কি হামাসকে পরাজিত করতে চান না?”
জবাবে জামির বলেন, “আপনি কিছুই বোঝেন না। ব্রিগেড বা ব্যাটালিয়ন কেমন হয়, তা জানেন না। এতে সময় লাগে।”
চ্যানেল-১২ জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা তখন নীরব ছিলেন। তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং দ্রুত সমাধান চাওয়া হচ্ছে বলে জানান।