ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

আমেরিকা ব্যর্থ, এবার চীনের পিএল-১৫ নকল করে মিসাইল বানাবে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

আমেরিকা ব্যর্থ, এবার চীনের পিএল-১৫ নকল করে মিসাইল বানাবে

যুক্তরাষ্ট্র এবার চীনের কাছে মিসাইলে গুরুত্ব দিলো। ট্রাম্প প্রশাসন চায় চীনের মতোই উন্নত মিসাইল, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরণের সাফল্য দিতে পারে। বিশেষ করে চীনের পিএল-১৫ মিসাইল, যা পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারে সফল হয়েছিল, সেই মডেল নকল করার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী এর জন্য সরকারের কাছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বাজেট চেয়েছে।

গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে চীনের পিএল-১৫ মিসাইল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এই মিসাইল ভারতের আধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তি দেখিয়েছে। পিএল-১৫ মূলত শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল ধ্বংসের জন্য ডিজাইন করা।

এটি সক্রিয় রাডার নির্দেশিত, দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল। এর পাল্লা ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি, এবং গতি শব্দের চেয়ে ৫ গুণ বেশি।

স্টাইলিশ এবং এলিগেন্ট নকশার এই মিসাইল জে-১০, জে-৬, জে-২০ এবং জেএফ-১৭ এর মতো উন্নত যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি জে-২০ স্টেলথ ফাইটারের অভ্যন্তরীণ অস্ত্রভাণ্ডারে বহন করা যায়। একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, এবং একবার উৎক্ষেপণের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে টার্গেট ধ্বংস করতে পারে। ফলে উৎক্ষেপণকারী বিমান দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে পারে।

গত মে মাসের যুদ্ধে পাকিস্তান এই মিসাইল ব্যবহার করে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল। রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের বড় ভুল ছিল পিএল-১৫ এর প্রকৃত রেঞ্জ সম্পর্কে ভুল ধারণা। ভারতীয় বিমান বাহিনী ভেবেছিল সর্বোচ্চ রেঞ্জ প্রায় ১৫০ কিমি, কিন্তু বাস্তবে প্রায় ২০০ কিমি দূর থেকে উৎক্ষেপিত মিসাইল সফলভাবে আঘাত হানে।

এই সাফল্যে মুগ্ধ মার্কিন সেনাবাহিনী এখন পিএল-১৫-এর মতো উন্নত মিসাইল হাতে পেতে চাইছে। এজন্য এআইএম-২৬০ মিসাইল উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। লকহিড মার্টিন কোম্পানি আট বছর ধরে এই মিসাইল তৈরি নিয়ে কাজ করছে। শিগগিরই এটি মার্কিন বাহিনীর হাতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

যদি এআইএম-২৬০ কার্যকর হয়, এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল। পাকিস্তানের মে মাসের সাফল্য দেখিয়েছে, দূরপাল্লার এ ধরনের মিসাইল আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।