ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

এই তারকারাই ভারতের ক্রিকেটকে বানালেন অপ্রতিরোধ্য!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০৮ পিএম

এই তারকারাই ভারতের ক্রিকেটকে বানালেন অপ্রতিরোধ্য!

বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত এখন শক্তিশালী দলগুলোর অন্যতম। তবে এই জায়গায় পৌঁছাতে পেছনে ছিল কিছু কিংবদন্তি ক্রিকেটারের অনবদ্য অবদান। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই ক্রিকেট তারকাদের, যারা ভারতের ক্রিকেটকে বিশ্বজয়ের পথে নিয়ে গেছেন—

. এমএস ধোনি
ক্রিকেট মানেই শুধু দলীয় খেলা নয়, ব্যক্তিগত প্রতিভাও এখানে দারুণভাবে প্রভাব ফেলে। ধোনি সেই প্রতিভাবানদের একজন, যিনি ভারতের ক্রিকেট ইতিহাস বদলে দিয়েছেন। শুধু উইকেটকিপার নয়, তিনি প্রমাণ করেছেন ব্যাট হাতেও ম্যাচ জেতানো যায়।
ধোনি ১০ হাজারের বেশি রান করেছেন ওয়ানডেতে, টেস্টে ৪ হাজারের বেশি এবং টি-টোয়েন্টিতেও করেছেন দেড় হাজারের বেশি রান। অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতিহাস গড়েছেন—২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় এনে দিয়েছেন। সীমিত ওভারের সব আইসিসি ট্রফি জেতা একমাত্র অধিনায়ক তিনিই।

. যুবরাজ সিং
ভারতের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার যুবরাজ। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উড়িয়ে তিনি জানান দিয়েছিলেন নিজের আগমনের। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছয় ছক্কার সেই ঐতিহাসিক কীর্তি আজও ভক্তদের মনে গেঁথে আছে।
তবে আসল জাদু দেখান ২০১১ বিশ্বকাপে—৩৬২ রান আর ১৫ উইকেট নিয়ে জেতেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব, আর ভারতকে এনে দেন ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে আবার মাঠে ফেরেন তিনি—যা তাকে ভক্তদের চোখে আরও বড় নায়ক বানিয়েছে।

. রাহুল দ্রাবিড়
‘দ্য ওয়াল’ খ্যাত দ্রাবিড় ছিলেন ভরসার আরেক নাম। টেস্টে ১৩ হাজারের বেশি এবং ওয়ানডেতে ১০ হাজারের বেশি রান করে তিনি প্রমাণ করেছেন, টেকনিক্যালি নিখুঁত ব্যাটিং দিয়েও কিংবদন্তি হওয়া যায়।
ভারতের জয়ে নেপথ্যের নায়ক হিসেবে তিনি সবসময়ই ছিলেন সামনে। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ জয় এনে দিয়েছিলেন অধিনায়ক হিসেবেও।

. বিরাট কোহলি
আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নামগুলোর মধ্যে কোহলি অন্যতম। ২০০৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পরেই শুরু তার উত্থান। এরপর তিনি হয়ে উঠেছেন ‘চেজ মাস্টার’।
ওয়ানডেতে শচীনের রেকর্ড ভেঙে ৫০ সেঞ্চুরির মালিক প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত করেছেন ১৪ হাজারের বেশি ওয়ানডে রান, ৯ হাজারের বেশি টেস্ট রান এবং চার হাজারের বেশি টি-টোয়েন্টি রান।
২০২৭ বিশ্বকাপেও তাকে দেখা যেতে পারে—যা ভারতকে আবারও অন্যতম ফেভারিট করে তুলবে।

. অনিল কুম্বলে
ভারতের স্পিন জাদুকরদের মধ্যে সবচেয়ে সেরা কুম্বলে। টেস্টে ৬১৯ আর ওয়ানডেতে ৩৩৪ উইকেট নিয়ে তিনি ভারতের সর্বকালের সেরা বোলার।
১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ইনিংসে সব ১০ উইকেট নেওয়া ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

. কপিল দেব
ভারতের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিপ্লবের নাম কপিল দেব। অলরাউন্ডার হিসেবে যেমন কিংবদন্তি, অধিনায়ক হিসেবেও তেমনি। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই ভারত হারায় অজেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
ক্যারিয়ারে ৪০০+ উইকেট আর ৫০০০+ টেস্ট রান করা একমাত্র খেলোয়াড় তিনিই। উইজডেন তাকে ঘোষণা করেছিল ‘ভারতের শতাব্দীর সেরা ক্রিকেটার’।

. সুনীল গাভাস্কার
ভারতের প্রথম সুপারস্টার ব্যাটসম্যান বলা যায় গাভাস্কারকে। টেস্টে ১০ হাজার রান করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার তিনি। ৩৪ টেস্ট সেঞ্চুরি ছিল তার সময়ের রেকর্ড।
১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলেরও অংশ ছিলেন তিনি। অবসরের পর ধারাভাষ্যকার হিসেবে এখনও ক্রিকেট ভক্তদের প্রিয় মুখ।

. শচীন টেন্ডুলকার
‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’—এই নামেই ভক্তরা তাকে ডাকে। টেস্টে ১৫ হাজারের বেশি এবং ওয়ানডেতে ১৮ হাজারের বেশি রান তার ঝুলিতে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শত সেঞ্চুরির রেকর্ড এখনও তার দখলে।
ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও তিনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে টেন্ডুলকার ক্রিকেট দুনিয়ায় ছিলেন সেরা তারকা। তার ব্যাট থেকেই এসেছে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে গর্বিত অধ্যায়গুলো।