এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
গাজার দক্ষিণে নাসের হাসপাতালে ভয়াবহ ‘দ্বৈত ট্যাপ’ হামলায় অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন সাংবাদিকও রয়েছেন। আল জাজিরা, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদের মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘ পর্যন্ত ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। ইসরায়েলের এই হামলাকে বলা হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবতার উপর সরাসরি আঘাত।
নাসের হাসপাতালে রক্তাক্ত ট্রাজেডি
সোমবারের এই হামলার প্রথম আঘাত লাগে হাসপাতালের একটি ভবনের ওপরের তলায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাংবাদিক ও উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দ্বিতীয়বার বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। শিশুবিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ আল-ফাররা জানান, কমলা রঙের জ্যাকেট পরা সাংবাদিকরা যখন আহতদের উদ্ধারে ব্যস্ত, তখনই দ্বিতীয় হামলায় তারা প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আল জাজিরার মোহাম্মদ সালামা, রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি, এপির ফ্রিল্যান্সার মরিয়ম আবু দাক্কা, সাংবাদিক আহমেদ আবু আজিজ ও মোয়াজ আবু তাহা। আল জাজিরার রিপোর্টার তারেক আবু আযযুম বলেন, “এই হামলা পুরো এলাকাকে বিশৃঙ্খলা আর আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে।”
বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়
আল জাজিরা এ হামলাকে “সত্য চাপা দেওয়ার স্পষ্ট প্রচেষ্টা” বলে নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “আর কত মৃত্যু দেখার পর বিশ্ব ব্যবস্থা নেবে? অবরোধ ভাঙুন, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুন।”
ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন একে “মুক্ত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ” বলে উল্লেখ করেছে।
শুধু এই হামলাতেই নয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ২৭৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। সাংবাদিকদের সুরক্ষা কমিটি আন্তর্জাতিক মহলকে ইসরায়েলকে জবাবদিহি করতে আহ্বান জানিয়েছে।
আরও প্রাণহানি, দুর্ভিক্ষের দুঃস্বপ্ন
সোমবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৬১ জন নিহত হয়েছেন। শুধু নাসের হাসপাতালে নয়, খান ইউনিসে আল-হায়াত আল-জাদিদার সংবাদদাতা হাসান দৌহানকেও হত্যা করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে আল জাজিরার জনপ্রিয় সাংবাদিক আনাস আল-শরিফকেও একইভাবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২,০০০-এরও বেশি মানুষ খাদ্য সাহায্যের সন্ধানে গিয়ে নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে—গাজায় শিশুরা ভয়াবহ অপুষ্টি ও অনাহারের মুখে। ওসিএইচএ বলছে, “ক্ষুধা ও রোগের কারণে শিশুদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে।”
শেষ নেই রক্তপাতের
অক্সফামের মানবিক উপদেষ্টা ক্রিস ম্যাকিনটোশ পরিস্থিতিকে “অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ নাকি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু ওয়াশিংটনের অব্যাহত সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থনে সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই দূর।
✅ এই ভয়াবহ হামলা শুধু হাসপাতালের নিরাপত্তা নয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গাজায় এখন মৃত্যু, দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসের ছায়ায় মানবতা হাহাকার করছে।