ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

হামাসকে ধ্বংস করা যাবে না” – ইসরায়েলের সাবেক সেনা কমান্ডারের চমকপ্রদ মন্তব্য, নরওয়ে সরাসরি বলল: গাজায় যা হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

হামাসকে ধ্বংস করা যাবে না” – ইসরায়েলের সাবেক সেনা কমান্ডারের চমকপ্রদ মন্তব্য, নরওয়ে সরাসরি বলল: গাজায় যা হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন!

ইসরায়েলের সাবেক সামরিক কমান্ডার গাদি শামনি জানিয়েছেন, গাজায় হামাসকে ধ্বংস করা অসম্ভব। তার দাবি, হামাস ইতিমধ্যেই নতুন করে টানেল খনন শুরু করেছে এবং এই আন্দোলন যতদিন থাকবে, ততদিন ইসরায়েলি বাহিনী হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। অন্যদিকে, নরওয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে—গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড একেবারেই অপরাধমূলক এবং এর কোনো আন্তর্জাতিক বৈধতা নেই।

গাজা উপত্যকার সাবেক কমান্ডার শামনি রোববার বলেন, “গাজার ওপর ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা সম্পূর্ণ ভুল।” তিনি সতর্ক করে দেন যে হামাস আবারও টানেল বানানো শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তার মতে, বন্দীদের মুক্ত করা আর হামাসকে ধ্বংস করার চেষ্টা—এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরের সাথে সাংঘর্ষিক।

নরওয়ের কড়া সমালোচনা
নরওয়ের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেয়াস ক্রাভিক জানান, গাজায় ইসরায়েলের কার্যক্রম সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করছে। তিনি বলেন, “৭ অক্টোবরের ঘটনার অজুহাতে গাজায় যেভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, তা অপরাধ ছাড়া কিছুই নয়।” এর জের ধরে নরওয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গুয়ের এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

 হামাসের টানেল নেটওয়ার্ক
সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, হামাসের টানেল সিস্টেম শুধু লুকিয়ে থাকার জায়গা নয়, বরং জটিল এক সামরিক অবকাঠামো। এখানে বড় কৌশলগত কেন্দ্রের পাশাপাশি ছোট ছোট টানেলও রয়েছে, যেগুলো দ্রুত চলাচল ও আকস্মিক হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়। এমনকি দুই বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়েও ইসরায়েলি সেনারা গাজার গভীরে প্রবেশ করতে পারেনি।

আমেরিকান সামরিক বিশ্লেষক অ্যালেক্স ব্লিটজাস বলেন, হামাস শুধু একটি সামরিক সংগঠন নয়, এটি এখনো নতুন যোদ্ধাদের আকৃষ্ট করছে—যুদ্ধের মাঝেও তাদের শক্তি বাড়ছে।

ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকের মতামত
ফিলিস্তিনি সামরিক বিশেষজ্ঞ ওমর জা’আরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিমান হামলা কোনো বিজয় আনতে পারেনি। তিনি বলেন, “এই আক্রমণ কেবল বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ডেকে এনেছে। প্রতিরোধ বাহিনীকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন প্রচারণা কেউ বিশ্বাস করে না। বরং এসব হামলার কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ বাড়ছে।”

ইয়েমেনিদের প্রতি সংহতি
পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, “ইয়েমেনিরা অদম্য, তারা কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। ফিলিস্তিন ও গাজার পাশে থেকে তাদের লড়াই চালিয়ে যাবে।”
 পুরো পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট, হামাসকে নির্মূল করার স্বপ্ন এখনও অধরা। বরং আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা, আর গাজার জনগণ প্রতিদিন আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।