ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ট্রাম্পের শুল্কে টালমাটাল ভারতীয় রপ্তানি! বন্ধ হয়ে গেল তিরুপুর-সুরাটের কারখানা, লাখো শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

ট্রাম্পের শুল্কে টালমাটাল ভারতীয় রপ্তানি! বন্ধ হয়ে গেল তিরুপুর-সুরাটের কারখানা, লাখো শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে নড়বড়ে হয়ে উঠল ভারতের রপ্তানি খাত। মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর তিরুপুর, নয়ডা ও সুরাটের একের পর এক টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (এফআইইও) জানাচ্ছে, এর ফলে ভারতের রপ্তানি এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এফআইইও সভাপতি এস সি রালহান সতর্ক করে বলেন, ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প আগেই ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মতো কম খরচের প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে বাজার হারাচ্ছে। এখন আবার ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্য সম্পূর্ণ অপ্রতিযোগিতামূলক হয়ে পড়বে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রগামী ভারতীয় রপ্তানির প্রায় ৫৫ শতাংশ— যার পরিমাণ প্রায় ৪৭-৪৮ বিলিয়ন ডলার— নতুন শুল্কের কারণে মূল্য সুবিধা হারাবে। শুধু টেক্সটাইল নয়, ভারতের চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানিও বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ সামুদ্রিক পণ্য আমদানি করে। এতে চাষি, সরবরাহ ব্যবস্থা ও রপ্তানি বাজার সবই চাপে পড়বে।

অন্যদিকে, কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি (সিআইটিআই) ভারত সরকারকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান রাকেশ মেহরা বলেন, “এই শুল্ক কার্যকর হলে শুধু রপ্তানি আয় নয়, লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। সরকারকে কাঁচামাল সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা ও নীতিগত সুবিধা দ্রুত দিতে হবে।”

সিআইটিআই প্রস্তাব করেছে, এক বছরের জন্য ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ স্থগিত রাখা হোক। অন্যদিকে এফআইইও বলছে, সংকট মোকাবিলায় স্বল্প সুদের ঋণ, রপ্তানি ক্রেডিট সহায়তা ও সুদ ভর্তুকি জরুরি, বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য।

সংগঠনটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এবং ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’ প্রচারণার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে ভারতীয় পণ্যের আকর্ষণ তৈরি করতে হবে। শিল্প নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— জরুরি পদক্ষেপ না নিলে শুধু টেক্সটাইল নয়, চামড়া, সিরামিক, কেমিক্যাল, হস্তশিল্প আর কার্পেট শিল্পও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।