ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

বাল্টিমোরে সেনা পাঠানোর হুমকি, মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুললেন ট্রাম্প


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

বাল্টিমোরে সেনা পাঠানোর হুমকি, মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের শহর বাল্টিমোরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় গভর্নর ওয়েস মুরসহ ডেমোক্র্যাট নেতাদের সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “যদি ওয়েস মুর সাহায্য চান, যেমন গ্যাভিন নিউসম লস অ্যাঞ্জেলসে করেছিলেন, আমি সেনা পাঠাব। ওয়াশিংটন ডিসিতেও যেমন করা হচ্ছে, তেমনি দ্রুত অপরাধ দমন করব।”
এর আগে গভর্নর মুর ট্রাম্পকে বাল্টিমোরে একটি “নিরাপত্তা হাঁটা”য় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে “উস্কানিমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ” বলে আখ্যা দেন।

ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের হুমকিকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে কটাক্ষ করেছেন। গভর্নর মুর বলেন, “এ ধরনের মন্তব্য এতটাই অজ্ঞতাপূর্ণ যে মনে হয় তারা আমাদের রাস্তায় কখনো হাঁটেননি, আমাদের সম্প্রদায়ের ভেতর ঢোকেননি।”

এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে ১৯টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১,৭০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন হতে পারে। ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ২,০০০ সেনা মোতায়েন করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, এতে রাজধানীতে “মোট নিরাপত্তা” ফিরেছে।

তবে সরকারি পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র দিচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ডিসিতে সহিংস অপরাধ ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্রমেই কমছে এবং ২০২৪ সালে তা গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের প্রাথমিক পরিসংখ্যানেও অপরাধ আরও কমেছে।

ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎজকারও ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার ভাষায়, “বাল্টিমোর বা শিকাগোতে সেনা পাঠানোর হুমকি স্পষ্টতই ক্ষমতার অপব্যবহার।”

ডেমোক্র্যাট হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, ট্রাম্পের এ ধরনের সেনা মোতায়েনের কোনো আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, “বাল্টিমোরে গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অথচ ট্রাম্প সেখানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে চাইছেন।”

অন্যদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক জরিপে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ৮০ শতাংশই জাতীয় রক্ষীবাহিনী ও ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের বিরোধিতা করছেন।