ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ধেয়ে আসছে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ‘কাজিকি’, ভিয়েতনাম-চীনে নিরাপদে সরানো হচ্ছে লাখো মানুষ!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

ধেয়ে আসছে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ‘কাজিকি’, ভিয়েতনাম-চীনে নিরাপদে সরানো হচ্ছে লাখো মানুষ!

দক্ষিণ চীন সাগরে শক্তি সঞ্চয় করে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘কাজিকি’। এই ঝড় ইতিমধ্যেই ভিয়েতনাম ও চীনের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। ঝড়ের আঘাত সামলাতে দুই দেশেই চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি—নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখো মানুষকে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নৌযান চলাচল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি একের পর এক ফ্লাইটও বাতিল হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ভিয়েতনামের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যানুযায়ী রবিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় কাজিকি মধ্যাঞ্চলীয় উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে ছিল। ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার বেগে পশ্চিমমুখী হয়ে ঝড়টি উপকূলের দিকে এগোচ্ছিল। তখন বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, সোমবার উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

ঝড়ের তাণ্ডব এড়াতে ভিয়েতনামের থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাংসহ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে অন্তত ৫ লাখ ৮৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাতটি উপকূলীয় প্রদেশে সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে মাছ ধরার নৌকা। সতর্ক করা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার নৌকা ও ২ লাখ ৪৯ হাজার জেলেকে।

জাতীয় বিমান সংস্থা ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস রবিবার ও সোমবার মিলিয়ে ২২টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাজেট এয়ারলাইন ভিয়েতজেট অ্যাভিয়েশনও একাধিক ফ্লাইট স্থগিত বা বিলম্বিত করেছে। এর ফলে ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে হাজারো যাত্রীর।

ঝড়ের আঘাতে ভিয়েতনামে ধান, ফল ও রাবারক্ষেতসহ লাখো হেক্টর জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে মাছের ঘেরও। জলাধারগুলো ইতিমধ্যেই ৮০ শতাংশের বেশি ভরে থাকায় বন্যার শঙ্কা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন জরুরি বৈঠক ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত সরিয়ে নেওয়া, বাঁধ মজবুত করা এবং ত্রাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কাজিকির কারণে কিছু এলাকায় ২০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল বাতাসের সঙ্গে উপকূলজুড়ে ভূমিধস ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
শুধু ভিয়েতনাম নয়, ঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চীনের হাইনান দ্বীপেও। জনপ্রিয় পর্যটন শহর সানিয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শপিং সেন্টার, রেস্তোরাঁ, সুপারমার্কেট ও গণপরিবহন। জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। রাজধানী হাইকো শহরের তিনটি বন্দরও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাজিকি যদি পূর্ণ শক্তিতে আঘাত হানে, তবে দুই দেশেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।