এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
গাজা পুরোপুরি দখলের ঘোষণা দিয়েই বিপাকে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ঘোষণার পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ, লাখো মানুষ নেমে এসেছে রাস্তায়। শুধু ভেতরে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সংকটে পড়ছে ইসরায়েল। একে একে মিত্র দেশগুলো ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান ইয়াল জামির প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নেতানিয়াহুর গাজা দখল পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট নন। উল্টো প্রধানমন্ত্রীকে জিম্মি বিনিময় চুক্তি মেনে নিতে চাপ দিচ্ছেন তিনি। সেনাপ্রধান ও সরকারের এই দ্বন্দ্ব ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে—ইসরায়েলে কি তবে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে?
ইসরায়েলি সেনারা সতর্ক করেছে, পুরো গাজা দখল করা সহজ নয়। প্রয়োজন হবে অমানবিক শক্তি ও বিপুল সেনা মোতায়েন। তাদের হিসেবে, হাজার হাজার সৈন্য নামালেও পুরো গাজা ধ্বংস করতে লেগে যেতে পারে কয়েক মাস, এমনকি এক বছরেরও বেশি সময়।
এদিকে দীর্ঘ যুদ্ধের চাপেই ক্লান্ত সেনারা। প্রাণহানি বেড়েছে, আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়ছে। ফলে মনোবল ভেঙে পড়ায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে সৈন্যদের ভেতর।
তবু নেতানিয়াহু থামছেন না। তিনি ইতোমধ্যেই ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর রিপোর্ট করতে বলেছেন। কিন্তু সেনাপ্রধান জামির সরাসরি এর বিরোধিতা করে সমাধান খুঁজতে জিম্মি বিনিময় চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা ছড়িয়েছে—ইসরায়েলে কি সামরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য? তবে বিভিন্ন জরিপ ও বিশ্লেষণ বলছে, অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। শক্তিশালী “ডিপ স্টেট” তা ঘটতে দেবে না।
সবচেয়ে সম্ভাব্য যে চিত্র বিশ্লেষকরা দেখছেন তা হলো—নেতানিয়াহু হয়তো হত্যার শিকার হতে পারেন বা অন্য কোনোভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এরপর নতুন নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিহাস বলছে, ইসরায়েলে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর হত্যার নজিরও আছে।
সব মিলিয়ে, অভ্যুত্থান সরাসরি না হলেও ইসরায়েল এখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার টানাপোড়েনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।