এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেছেন, যেসব পশ্চিমা দেশ সবসময় মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, তারা গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চালানো ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতেও ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা জানি ইসরায়েল একা যুদ্ধ করতে পারে না। অন্য শক্তিগুলো তাদের সহায়তা করছে। এটা এক ধরনের প্রক্সি যুদ্ধ। ইসরায়েল পশ্চিমাদের পক্ষ হয়ে এই অঞ্চলে লড়াই করছে, তাই পশ্চিমারা চোখ বুঁজে আছে। মানবাধিকারের কথা তারা সবসময় বলে, কিন্তু গাজায় যা ঘটছে, তার মতো সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের উদাহরণ আর নেই।
জালালির মতে, গাজায় ইসরায়েল আসলে ‘নিরাপত্তাহীন ও নিরপরাধ মানুষদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইরান গাজা নয়।” ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যেসব খবর বের হয়েছে, সেগুলোকে তিনি মিডিয়ার কল্পনা বলে উড়িয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে আক্রমণের শিকার হলে প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত। “১২ দিনের যুদ্ধে যদি ইসরায়েল বড় ক্ষতির শিকার না হতো, তাহলে তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবই দিত না,”—বলেছেন ইরানি কূটনীতিক।
এরই মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রোববার ২৪ আগস্ট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হুথি-শাসিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলায় ৬ জন নিহত ও অন্তত ৮৬ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
হুথি-সংযুক্ত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, টার্গেট করা হয়েছিল সানার একটি তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস। ইসরায়েলের দাবি, ওই প্রেসিডেন্সিয়াল ভবন আসলে সামরিক কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত।
হুথিদের বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় গণহত্যা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করার অংশ হিসেবে তারা কয়েক দিন আগে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর জবাবেই ইসরায়েল এ অভিযান চালায়। তবে হুথিদের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ইসরায়েলি বিমানকে বাধা দিয়েছে। আল জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে সানার আকাশে ধোঁয়া আর আগুনের স্তম্ভ উঠতে দেখা গেছে।
হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “যত ত্যাগ স্বীকার করতে হোক না কেন, ইসরায়েলের হামলা আমাদের গাজার পাশে দাঁড়ানো থেকে আটকাতে পারবে না।
আরেক কর্মকর্তা আবেদ আল-থাওরের অভিযোগ, ইসরায়েলের সামরিক টার্গেট ধ্বংসের দাবি মিথ্যা; আসলে তারা বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে ইয়েমেনিদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
হামাসও ইসরায়েলের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “আরব সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের নগ্ন লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছে।