এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে বসেই খনিজ সম্পদ নিয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। ইউক্রেন ও গ্রীনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ দখল নিয়ে সরব হওয়ার পর এবার সরাসরি হুমকি দিলেন বিশ্বশক্তি চীনকে।
২৫ আগস্ট ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লিজামিয়ং-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। বৈঠকের মাঝেই ওভাল অফিস থেকে তিনি ঘোষণা দেন— “চীন যুক্তরাষ্ট্রকে খনিজ চুম্বক দেবে, না দিলে তাদের ২০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “চীন বুদ্ধিমত্তার সাথে বিশ্বের চুম্বক বাজার দখল করেছে। তবে আমাদের হাতে আছে শুল্ক নামের অস্ত্র। প্রয়োজনে সেটা ব্যবহার করব। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেরও নিজস্ব চুম্বক থাকবে।
ট্রাম্পের এ মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চীনের রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট। প্রশ্ন উঠছে— কেন এই চুম্বক নিয়ে এত মাথাব্যথা ট্রাম্পের?
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইলেকট্রিক গাড়ি থেকে শুরু করে ফাইটার জেট, মিসাইল আর সাবমেরিন পর্যন্ত—সবকিছুর জন্য অপরিহার্য এই রেয়ার আর্থ চুম্বক। আর বিশ্বে এর ৯০% উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ চীনের দখলে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাত কার্যত চীনের উপর নির্ভরশীল।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে উন্নত জিপিইউ বিক্রি নিষিদ্ধ করে এবং হুয়া ও এসএমআইসি-র মতো প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। জবাবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালিয়াম, জার্মানিয়াম, গ্রাফাইট ও রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।
এতে বিপাকে পড়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প ও টেক কোম্পানিগুলো। টেসলা, জেনারেল মোটরসসহ বড় কোম্পানিগুলো বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হলেও, সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে শেষ পর্যন্ত আবারও চীনের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন একতরফাভাবে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তখন তারা এই নির্ভরশীলতা ভেবে দেখেনি। এখন ২০০% শুল্কের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প চীনকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে চাইছেন।