এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
ভারতের ছদ্মবেশে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল? ফাঁস হলো “অপারেশন সিদুর”-এর আসল রহস্য!
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বড়সড় এক বিস্ফোরণ—ভারতের বহুল প্রচারিত “অপারেশন সিদুর” নিয়ে নতুন তথ্য ফাঁস হয়েছে। ভারত যে পাকিস্তানের হামলা প্রতিহত করার কৃতিত্ব নিজেদের ঘাড়ে নিয়েছিল, সেটির পেছনে নাকি বড় ভূমিকা রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল।
ভারতীয় সেনারা জানিয়েছিল, তারা টানা ১০০ ঘণ্টা ধরে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। কিন্তু ব্যবহৃত অস্ত্রের তালিকা ঘেঁটে বেরিয়ে এসেছে অন্য গল্প। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে ব্যবহৃত অধিকাংশ প্রযুক্তি ও অস্ত্রই এসেছে ইসরাইল থেকে।
বারাক-৮ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে মারাত্মক হারপি ড্রোন—সবই ইসরাইলি তৈরি। বিশেষ করে হারপি ড্রোন পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এটি শত্রুর রাডার সিগন্যাল শনাক্ত করলেই ছুটে গিয়ে তা মুহূর্তে ধ্বংস করতে সক্ষম।
আর ভারত-ইসরাইলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বারাক-এইচ সিস্টেম ৩৬০ ডিগ্রি কভারেজ দিয়ে একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে—যা ভারতীয় সেনাদের শক্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও এ সহযোগিতা লুকাননি। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “আমরা যা দিয়েছি, তা বাস্তব যুদ্ধে দারুণভাবে কাজ করেছে।” এমনকি জেরুজালেমে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জেপি সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামাজিক মাধ্যমে দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে আরও ভয়ঙ্কর চিত্রনাট্য রয়েছে। তাদের দাবি, ভারতকে আড়াল করে ইসরাইল আসলে পাকিস্তানকে দুর্বল করার দীর্ঘমেয়াদি মিশন চালাচ্ছে। এমনকি অভিযানে সরাসরি ইসরাইলি পাইলটরাও অংশ নিয়েছিল, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগ উঠেছে, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ব্যবহার করে ইসরাইল পাকিস্তানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছে। শুধু তাই নয়, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই ইসরাইলি প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভারত হয়তো একসময় মুসাদের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে পরিণত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, “অপারেশন সিদুর”-এর আসল রহস্য ফাঁস হওয়ার পর শুধু ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কই নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণ আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।