এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
আফগানিস্তানের পর এবার মধ্যপ্রাচ্য থেকেও দীর্ঘদিনের মার্কিন সেনা উপস্থিতি শেষ হতে যাচ্ছে। এক সময় বাগদাদের আকাশে রাতদিন ঘুরে বেড়াত মার্কিন যুদ্ধবিমান, চারদিকে কানে বাজত বিস্ফোরণের শব্দ। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরাক থেকে পুরোপুরি সরে যাবে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানীর এক সহযোগী জানান, রাজধানী বাগদাদ এবং পশ্চিম আনবার প্রদেশের আইন আল আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে ধাপে ধাপে সরানো হবে জোটের বাহিনী। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বহু বছর আগে গঠিত এই জোট এখন ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সুদানীর উপদেষ্টা হোসেন আল্লাভী বলেন, এই পদক্ষেপ কেবল সৈন্য সরানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে আছে এক বার্তা—ইরাক এখন নিজেই নিজের নিরাপত্তা সামলাতে প্রস্তুত। সরকারের প্রতিশ্রুতি, তারা তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে, যাতে বিদেশী সহায়তার ওপর নির্ভর করতে না হয়।
আল্লাভী আরও জানান, এই প্রত্যাহার দুই ধাপে হবে। প্রথম ধাপ শেষ হবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এবং পুরো মিশন শেষ হবে পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে। তবে ইরাক আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। এটি দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তার মতে, ধাপে ধাপে সৈন্য সরানো শুধু ইরাকের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য জোটভুক্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার একটি কৌশল। ইতিমধ্যেই বাগদাদের সাধারণ মানুষ হয়তো স্মৃতির অ্যালবাম উল্টে দেখছেন—বোমার শব্দ, ধুলোভরা রাস্তায় টহল দিচ্ছে বিদেশী সৈন্যরা, চেকপোস্টের আতঙ্ক।
এখন একটাই প্রশ্ন—যুদ্ধের ছায়া সরিয়ে কি শান্তির নতুন ভোর দেখবে ইরাক, নাকি আবারও ইতিহাসের রক্তাক্ত চক্রে ফিরে যাবে দেশটি? সময়ই উত্তর দেবে।