এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক এবং টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল প্রার্থী ভ্যালেন্টিনা গোমেজ ফের চরম বিতর্কে জড়ালেন। তিনি ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন আগুনে পুড়িয়ে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করেছেন। আর এ নিয়েই উঠেছে নিন্দার ঝড়।
গোমেজ ২০২৬ সালে টেক্সাসের ৩১তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য পরিচিত এই প্রার্থী গত ২৬ আগস্ট ভিডিওটি প্রকাশ করেন। তাতে দেখা যায়, তিনি একটি ফায়ার গান দিয়ে কোরআনে আগুন দিচ্ছেন। এসময় গোমেজ বলেন, “আমি টেক্সাসে ইসলাম শেষ করব, হে ঈশ্বর আমাকে সাহায্য করুন।” এরপর তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার মতো উসকানিমূলক অভিযোগও তোলেন।
ভিডিওতে তিনি রাজনৈতিক সমর্থনেরও আহ্বান জানান। বলেন, “আমাকে সংসদে পৌঁছাতে সাহায্য করুন, যাতে কখনও মুসলিমদের ছোড়া পাথরের মুখোমুখি হতে না হয়।”
তার এই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে বলেছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার হুমকি আরও বেড়ে গেল।
এটাই প্রথম নয়। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে গোমেজ আগেও আলোচনায় এসেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি নিউ ইয়র্কে একটি বিক্ষোভে অংশ নেন এবং সেখানে অভিবাসীদের প্রতীকী ডামি গুলি করেন। ওই সময় তিনি প্রকাশ্যে অপরাধী অভিবাসীদের ফাঁসি দেওয়ার আহ্বানও জানান। পরে ভিডিওটি সরানো হয় এবং তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়।
গোমেজ তখন অভিযোগ করেছিলেন, “আমার ভিডিও অপসারণ প্রমাণ করে আমি ক্ষমতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি, কারণ আমি সত্য কথা বলি।
তিনি আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন যেখানে এলজিবিটিকিউ+ বিষয়ক বই পুড়াতে দেখা যায় তাকে। দাবি করেছিলেন, এসব বই শিশুদের নষ্ট করছে। তবে এত কাণ্ড করেও রিপাবলিকান প্রাইমারিতে তার সমর্থন বাড়েনি। তিনি মাত্র ৭.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকেন।
পরাজয়ের পরও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় আছেন এবং তার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন।