ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

আবর্জনার পাহাড় থেকে ‘নোংরা সোনা’: ইরান কীভাবে ময়লা ফেলে তৈরি করছে জ্বালানির বিপ্লব, বছরে মিলছে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০৮ পিএম

আবর্জনার পাহাড় থেকে ‘নোংরা সোনা’: ইরান কীভাবে ময়লা ফেলে তৈরি করছে জ্বালানির বিপ্লব, বছরে মিলছে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ!

পশ্চিম ইরানের কেরমানশাহ শহরের বাইরে বিশাল এক আবর্জনার পাহাড়। দুর্গন্ধে ভরা সেই স্তূপই এখন পরিণত হয়েছে দেশের নতুন সম্পদে। যেটি আগে ছিল কেবল পচা-গন্ধময় ময়লা, সেটিই এখন পরিচিত হচ্ছে ‘নোংরা সোনা’ নামে। এখান থেকেই ইরান খুঁজে পাচ্ছে শক্তি, অর্থনীতি ও পরিবেশের নতুন দিশা।

২০০০ সালে কেরমানশাহে ইরানের সবচেয়ে আধুনিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য কেন্দ্র চালু হয়। শুরুটা ছিল এক সাহসী উদ্যোগ—আবর্জনা থেকে শক্তি তৈরির পরীক্ষা। আজ সেই কেন্দ্র প্রতিদিন ৬৫০ থেকে ৭০০ টন পৌর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করছে এবং সেখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে শক্তি-সমৃদ্ধ জ্বালানি, যেটি পরিচিত আরডিএফ বা রিফিউজ-ডেরাইভড ফুয়েল নামে।

আরডিএফ মূলত অ-পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগ, টেক্সটাইল, কাগজ ও অন্যান্য দাহ্য বর্জ্য থেকে তৈরি হয়। এটি এখন জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, যা ইরানের শিল্পে বড় পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ঘন ও দূষণকারী মাজুত তেলের জায়গা নিচ্ছে এই পরিচ্ছন্ন জ্বালানি।

কেরমানশাহের ওয়েস্ট সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি ইরানের প্রথম কারখানা, যেখানে আংশিকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবর্তে আরডিএফ ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রতিদিন এখানে প্রায় ১২০ টন আরডিএফ সরবরাহ করা হয়, যা মোট প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১৯ শতাংশ কমিয়েছে।

কেরমানশাহ প্রদেশেই প্রতিদিন উৎপন্ন হয় ১৪শ থেকে ১৫শ টন বর্জ্য, যার অর্ধেক আসে শহর থেকে। আর জাতীয়ভাবে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৬০,০০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন করে—বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন! অথচ পুনর্ব্যবহার হয় মাত্র ৫-১০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ৬ মিলিয়ন টন বর্জ্য সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা গেলে বছরে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের সম্পদ পাওয়া সম্ভব।

এই খাত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করছে। অনেক দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের বড় উৎস। ইরানও চাইলে এখান থেকে তরুণদের জন্য নতুন চাকরি তৈরি করতে পারে, যা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, ল্যান্ডফিলে জমা বর্জ্য মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করে। আরডিএফ উৎপাদন বাড়ালে শুধু দূষণ কমবে না, মূল্যবান ভূমিও বাঁচবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে, যা জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণে ইরানকে সহায়তা করবে।

সম্প্রতি কেরমানশাহ সফরে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি আরডিএফকে দেশের জ্বালানি ও অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একসময় যেটা ছিল আবর্জনা, এখন সেটিই হয়ে উঠছে ইরানের ভবিষ্যৎ জ্বালানির ভরসা।