এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কিংবা সাংবাদিকতা করার স্বপ্ন যারা দেখছেন, তাদের জন্য এলো বড় দুঃসংবাদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রস্তাবিত নীতিমালায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনকে আরও কঠোর করার ট্রাম্প সরকারের বড় পরিকল্পনার অংশ।
ট্রাম্প জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। এবার এই নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মী ও সাংবাদিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরও কঠিন হয়ে যাবে। আগে তুলনামূলক সহজে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যেত, কিন্তু এবার আলাদা আবেদন না করলে তা আর সম্ভব হবে না।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মীদের জে ভিসা এবং সংবাদকর্মীদের আই ভিসা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বর্তমানে এসব ভিসার মেয়াদ কর্মসূচি বা চাকরির সময়সীমার ওপর নির্ভর করে থাকত।
মার্কিন সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এফ ভিসায় ছিলেন। একই অর্থবছরে ৩ লাখ ৫৫ হাজার বিনিময় কর্মী এবং প্রায় ১৩ হাজার বিদেশি সাংবাদিক ভিসা পেয়েছিলেন।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে—
শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মীদের ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ৪ বছর।
সাংবাদিকদের ভিসা আগে কয়েক বছরের জন্য কার্যকর থাকলেও এখন তা কমিয়ে মাত্র ২৪০ দিন করা হবে।
চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে মেয়াদ আরও কমিয়ে দেওয়া হবে, মাত্র ৯০ দিন।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবেদন করলে ভিসা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ভিসাধারীদের কার্যকরভাবে “পর্যবেক্ষণ ও তদারকির” জন্যই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জনগণের কাছে এই প্রস্তাব নিয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মতামত নেওয়া হবে।
এর আগেও ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একই ধরনের নিয়ম আনতে চেয়েছিল। তবে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
তখন আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক অলাভজনক সংগঠন NAFSA, যেটি বিশ্বের ৪,৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, এই প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করেছিল।
রয়টার্স আরও জানাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন নিয়েও বহুবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসা ও গ্রিন কার্ড তাদের মতাদর্শগত অবস্থানের কারণে বাতিল করা হয়েছিল। লক্ষাধিক অভিবাসীর বৈধ মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হয়।
এমনকি সম্প্রতি, ২২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (USCIS) জানায় যে, তারা আবারও নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের আবাসিক এলাকা পরিদর্শন শুরু করবে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, নৈতিক চরিত্র এবং মার্কিন মূল্যবোধে অঙ্গীকার যাচাই করা হবে।