এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক আরোপও থামাতে পারছে না ভারতের তেল কেনা। আগামী সেপ্টেম্বরেই রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি আরও বাড়াতে চলেছে নয়াদিল্লি। দেশটির ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সস্তা তেলের সুযোগ ভারতের পরিশোধনকারীরা হাতছাড়া করতে চাইছে না।
ওয়াশিংটন মূলত ভারতকে চাপ দিতেই এ বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে, যাতে নয়াদিল্লি রাশিয়ার সঙ্গে তেলবাণিজ্য কমায় এবং মস্কোকে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিচুক্তিতে রাজি করানো যায়।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ানোর পর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি সংকটে পড়ে। সেই সময় থেকেই ভারত হয়ে ওঠে রুশ জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তুলনামূলক সস্তা দামে অপরিশোধিত তেল কিনে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো বিশাল লাভ করছে।
কিন্তু বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিশোধ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায়। তবে এর মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক সফরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন—ভারত রাশিয়ার সস্তা তেল কিনে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। অন্যদিকে ভারত পাল্টা যুক্তি দিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাও এখনো রাশিয়া থেকে শত শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে।
তেল বাজার সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরেই ভারত রাশিয়া থেকে আমদানি ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। অর্থাৎ প্রতিদিন অতিরিক্ত দেড় থেকে তিন লাখ ব্যারেল তেল কিনতে পারে নয়াদিল্লি।
বর্তমানে ভারতই রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে। চীন ও তুরস্ক এই তালিকার অন্য দুই শীর্ষ ক্রেতা।