এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমেছে বড় ধরনের ঝড়। সাময়িক বরখাস্তের পর এবার আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকেও ছিটকে যাচ্ছেন পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেশটির সাংবিধানিক আদালত জানায়, কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে নিয়ে ফোনালাপে দেয়া মন্তব্য নৈতিক মানদণ্ডের গুরুতর লঙ্ঘন।
আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, এই ফোনালাপ কেবল বিতর্কই নয়, বরং দেশের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার উদাহরণ। নয় বিচারকের মধ্যে সাতজন ভোট দেন পেতংতার্নকে পদ থেকে সরানোর পক্ষে। আদালতের মতে, তার কর্মকাণ্ড থাইল্যান্ডের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পদ সাময়িক স্থগিত হওয়ার পর থেকেই সিনাওয়াত্রা রাজবংশের জন্য এটি একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আর এবার আদালতের রায় তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও সংকটের মুখে ফেলল।
ফাঁস হওয়া ফোনালাপে পেতংতার্নকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে অতিমাত্রায় বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়। তিনি হুন সেনকে ‘আংকেল’ বলে সম্বোধন করেন এবং থাই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়—পেতংতার্ন আসলে থাইল্যান্ডের চেয়ে কম্বোডিয়ার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন কি না।
পেতংতার্ন অবশ্য দাবি করেছিলেন, ওই ফোনালাপ ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহিংসতা ঠেকানোর জন্য ব্যক্তিগত কৌশল। কিন্তু আদালত তার এই ব্যাখ্যা একেবারেই মেনে নেয়নি। রায়ে বলা হয়েছে, তিনি দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
ঘটনার পরপরই থাইল্যান্ডজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জনগণ রাজপথে নেমে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে। পরবর্তীতে সাংবিধানিক আদালতে পিটিশন দায়ের হয়। গত ১ জুলাই অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে আদালত ৭-২ ভোটে পেতংতার্নকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়।
আদালতের এই রায়ের পর পেতংতার্ন গভর্নমেন্ট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় শুধু পেতংতার্ন নয়, পুরো সিনাওয়াত্রা পরিবারকেই রাজনৈতিকভাবে বড় চাপে ফেলেছে।