এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
মার্কিন আপিল আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালতের মতে, এই শুল্ক রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না, বরং কংগ্রেসের এখতিয়ার। এই রায় শুধু ট্রাম্পের নীতি নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন মামলাটি যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বেশিরভাগ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এই রায়কে ঘিরে এখন বড় ধরনের আইনি সংঘাত তৈরি হতে পারে, যা ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির বড় অংশকে উল্টে দিতে সক্ষম।
আদালতের এই রায় মূলত ট্রাম্পের আরোপ করা “পারস্পরিক শুল্ক”-এর ওপর প্রভাব ফেলেছে। এসব শুল্ক বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর আরোপিত ছিল, একইসাথে চীন, মেক্সিকো ও কানাডার মতো দেশের ওপরও পড়েছিল এর প্রভাব।
৭-৪ ভোটে দেওয়া এই রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত জানায়, ট্রাম্প যে “জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন” (IEEPA) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনের আওতায় পড়ে না। আদালতের ভাষায়, এই শুল্ক ছিল “আইনের পরিপন্থী ও অবৈধ”।
তবে রায়টি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। প্রশাসনের হাতে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য।
রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “যদি এই রায় বহাল থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাবে।” তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “শুল্ক বাতিল হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে, আর আমেরিকার জন্য তা হবে সম্পূর্ণ বিপর্যয়।”
আদালত তাদের ১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্ট করেছে, IEEPA-তে শুল্ক আরোপের কোনো উল্লেখ নেই। বরং শুল্ক নির্ধারণ কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতার অংশ, যা রাষ্ট্রপতি এককভাবে করতে পারেন না।
ট্রাম্প তার যুক্তিতে বলেছিলেন, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই তিনি বাণিজ্যে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু আদালত বলেছে, শুল্ক আরোপ রাষ্ট্রপতির ম্যান্ডেট নয়, বরং এটি মূলত কংগ্রেসের এখতিয়ার।
এই রায়ের আগে, ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতও শুল্কগুলোকে বেআইনি ঘোষণা করেছিল। যদিও তখন আপিল প্রক্রিয়া চলছিল বলে তা কার্যকর হয়নি।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক পরিকল্পনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর শুল্কও বাতিল হয়ে গেছে। তবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক এখনও বহাল থাকছে, কারণ তা অন্য আইন অনুযায়ী আরোপিত।
হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছিলেন, এই শুল্ক বাতিল হলে ১৯২৯ সালের মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয় হতে পারে। তবে আদালত জানিয়েছে, কংগ্রেস ছাড়া রাষ্ট্রপতির পক্ষে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
এখন নজর সবাই সুপ্রিম কোর্টের দিকে। যদি শীর্ষ আদালত এই মামলাটি গ্রহণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমা নিয়ে বড় ধরনের আইনি নজির তৈরি হতে পারে।