ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, বন্দরে নিষেধাজ্ঞা: তুরস্কের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য! গাজা গণহত্যা ইস্যুতে এরদোয়ানের কঠোর বার্তা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

ইসরায়েলের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, বন্দরে নিষেধাজ্ঞা: তুরস্কের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য! গাজা গণহত্যা ইস্যুতে এরদোয়ানের কঠোর বার্তা

তুরস্ক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে দেশটি শুধু বাণিজ্য বন্ধ করেনি, বরং ইসরায়েলি বিমান ও জাহাজের জন্য আকাশসীমা ও সমুদ্রপথও বন্ধ করে দিয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তুর্কি সংসদের এক বিশেষ অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ঘোষণা দেন—“আমরা ইসরায়েলের সাথে আমাদের বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করেছি। তাদের জাহাজ আমাদের বন্দরে ঢুকতে পারবে না, আর বিমান আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।”

তিনি বলেন, “গত দুই বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। বিশ্বের চোখের সামনে মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ পদদলিত হচ্ছে।”

তুরস্ক ইতোমধ্যেই ২০২৩ সালের মে মাসে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ করেছিল। তখন শর্ত ছিল—স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা। অথচ এর আগের বছর দুই দেশ ৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করেছিল।

রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও এর আগেই স্পষ্ট ভাষায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কার্যক্রমকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক পরিবহনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফলে তুর্কি পতাকাবাহী জাহাজ ইসরায়েলি বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না।

আল জাজিরার বিশ্লেষক রেসুল সেরদার বলেছেন, “তুরস্ক ধীরে ধীরে ইসরায়েলকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে সিরিয়ায় ইসরায়েলের ভূমিকা আঙ্কারার দৃষ্টিতে বড় উদ্বেগের।”

এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের জন্যও বড় ধাক্কা। দেশটির বিশ্লেষক আকিভা এলদার বলেছেন, “তুরস্ক শুধু আরেকটি দেশ নয়, এটি বহু বছর ধরে ইসরায়েলের মিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার ছিল। এখন ইসরায়েল ক্রমেই একা হয়ে যাচ্ছে।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে গাজায় ত্রাণবহরে ইসরায়েলের হামলায় ১০ জন তুর্কি নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। সম্প্রতি, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হন এক তুর্কি-আমেরিকান কর্মী।

তুরস্কের সর্বশেষ কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।