ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

যুদ্ধের ছায়ায় পর্যটন বিপর্যয়: ইরানের সাথে সংঘাতের পর ইসরায়েলে নেই কোনো বিদেশি ভ্রমণকারী


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

যুদ্ধের ছায়ায় পর্যটন বিপর্যয়: ইরানের সাথে সংঘাতের পর ইসরায়েলে নেই কোনো বিদেশি ভ্রমণকারী

ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের পর্যটন খাত ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। দেশটির একটি শীর্ষ অর্থনৈতিক পত্রিকা “ক্যালকালিস্ট” স্বীকার করেছে, চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে বিদেশি পর্যটকরা পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, ফলে হোটেল ব্যবসা থেকে শুরু করে পুরো অর্থনীতি ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় হোটেল নেটওয়ার্ক ফ্যাটাল হোটেলস সরাসরি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। গাজায় যুদ্ধ ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংকটের কারণে ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অতিথি আগমন নেমে এসেছে মাত্র ৫৮ শতাংশে, যেখানে ২০২৩-২৪ সালে একই সময়ে তা ছিল প্রায় ৭২ শতাংশ। অথচ এ সময়কে ঐতিহ্যগতভাবে পর্যটনের শীর্ষ মৌসুম ধরা হয়, কারণ এতে বসন্তকালীন ছুটি ও ইস্টার উদযাপন থাকে।

“ক্যালকালিস্ট” জানিয়েছে, এবার বিদেশি পর্যটকের অভাব এতটাই তীব্র যে, অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের আবাস দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এমনকি বহু হোটেলকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। বুকিং বাতিল হচ্ছে ব্যাপক হারে।

কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ইরানের সাথে যুদ্ধে সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ মিলিয়ন শেকেল (১৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। শুধু তাই নয়, ফ্যাটালের মূল পরিচালন মুনাফা স্থানীয় বাজারে কমে দাঁড়িয়েছে ১১৩ মিলিয়ন শেকেল (৩০.৫ মিলিয়ন ডলার), যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম।

আয় কমার শঙ্কা

ফ্যাটাল হোটেলস নতুন পূর্বাভাসে জানিয়েছে, তাদের বার্ষিক আয় নেমে আসবে ৮.১ থেকে ৮.৩ বিলিয়ন শেকেলে (২.১৮ থেকে ২.২৪ বিলিয়ন ডলার)। একইসঙ্গে মুনাফা কমে দাঁড়াতে পারে ২.৭৫ থেকে ২.৯ বিলিয়ন শেকেলে (৭৪২.৫ থেকে ৭৮৩ মিলিয়ন ডলার)।

ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার

“ক্যালকালিস্ট” স্পষ্ট জানাচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে বিদেশি পর্যটকরা ফিরবেন এমন কোনো লক্ষণ নেই। ফ্যাটাল হোটেলস কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, আর ইউরোপীয় হোটেল বা রিয়েল এস্টেট ফান্ড থেকে বাড়তি আয় দিয়েও স্থানীয় বাজারের ক্ষতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

সংবাদপত্রটির ভাষায়, বিগত কয়েক বছরের আঞ্চলিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলের পর্যটন শিল্প এখন আরও ভয়াবহ পতনের মুখে। আর দ্রুত পুনরুদ্ধারের কোনো আশা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।