ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

অ্যাঙ্গোলায় ৮ মিলিয়ন মানুষকে দাস বানিয়েছিল যে ইউরোপীয় দেশ! পর্তুগালের উপনিবেশিক শাসনের রোমহর্ষক ইতিহাস, হত্যাযজ্ঞ আর মুক্তির সংগ্রাম


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

অ্যাঙ্গোলায় ৮ মিলিয়ন মানুষকে দাস বানিয়েছিল যে ইউরোপীয় দেশ! পর্তুগালের উপনিবেশিক শাসনের রোমহর্ষক ইতিহাস, হত্যাযজ্ঞ আর মুক্তির সংগ্রাম

দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের ছোট্ট দেশ পর্তুগাল পৃথিবীর ইতিহাসে রেখে গেছে ভয়ঙ্কর এক অধ্যায়। অন্য ইউরোপীয় দেশের মতোই তাদেরও ছিল এক দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস। আফ্রিকা থেকে লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই শাসনের মধ্যে ছিল অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক, ব্রাজিল, কেপ ভার্দ, পূর্ব তিমুর এবং ভারতের কিছু অংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর নিপীড়নের শিকার হয়েছিল আফ্রিকার সম্পদশালী দেশ অ্যাঙ্গোলা।

১৪৮৩ সালে পর্তুগিজরা প্রথম পা রাখে অ্যাঙ্গোলায়। সে সময় দেশটি ছিল কৃষি, সোনা-হীরার খনি আর তেলের জন্য আফ্রিকার অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অ্যাঙ্গোলা দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু এই সমৃদ্ধ ভূমি হয়ে ওঠে দাস ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু।

প্রায় পাঁচশ বছর ধরে পর্তুগাল অ্যাঙ্গোলার ওপর শাসন চালায়। এই সময়ে দেশটির সম্পদ লুট করার পাশাপাশি তারা ব্যাপক দাস ব্যবসা গড়ে তোলে। শুধু অ্যাঙ্গোলা থেকেই প্রায় ৮ মিলিয়ন মানুষকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়। আঠারো শতকে যেখানে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে মোট ৬ লাখ ১১ হাজার দাস রপ্তানি হয়েছিল, সেখানে পর্তুগাল একাই অ্যাঙ্গোলা থেকে রপ্তানি করে প্রায় ১৪ লাখ ১৪ হাজার মানুষ—যা বাকি সবার মিলিত সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি!

কেবল রপ্তানি নয়, অসংখ্য অ্যাঙ্গোলীয়কে জোরপূর্বক কৃষি খামারে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে অ্যাঙ্গোলার মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ১৯৬১ সালে শুরু হয় ভয়াবহ গণহত্যা। জানুয়ারিতে কয়েক দিনে ৫,০০০ মানুষকে হত্যা করে পর্তুগিজ সেনারা। মার্চে উত্তরের কিছু কৃষক মজুরির দাবি তুললে সেনারা বোমা বর্ষণ করে ১৭টি গ্রাম ধ্বংস করে প্রায় ২০,০০০ মানুষকে হত্যা করে। শুধু ওই বছরেই নিহতের সংখ্যা পৌঁছে যায় প্রায় ৫০,০০০-এ।

‘লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্তুগিজ সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের মাথা কেটে গাছে ঝুলিয়ে রাখত। শত শত বন্দিকে হত্যা করে গণকবরে চাপা দেওয়া হতো। এমনকি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, বনাঞ্চলে রাসায়নিক পদার্থ ঢেলে আগুন লাগানো—সবই ছিল তাদের নৃশংসতার অংশ।

কিন্তু এত সহিংসতা সত্ত্বেও অ্যাঙ্গোলার স্বাধীনতার আগুন নিভে যায়নি। বরং মানুষ আরও ঐক্যবদ্ধ হয়। দীর্ঘ প্রতিরোধ, আন্দোলন আর ত্যাগের পর অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বর অ্যাঙ্গোলা স্বাধীনতা লাভ করে। প্রায় পাঁচশ বছরের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তি পায় পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে।