ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ডিএনএ চাঞ্চল্য: ২২ বছর লালন করা দুই ছেলে আসলে বাবা-সন্তান নয়! চীনে এক ব্যক্তির জীবনে এসেছে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

ডিএনএ চাঞ্চল্য: ২২ বছর লালন করা দুই ছেলে আসলে বাবা-সন্তান নয়! চীনে এক ব্যক্তির জীবনে এসেছে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা

চীনের শানডং প্রদেশে ৪৫ বছর বয়সী জিয়াং হংতাও ২২ বছর লালন-পালন করা দুই ছেলের আসল পরিচয় জানতে পেরে চরম আঘাত পেয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, বড় ছেলে রুনঝে এবং ছোট ছেলে কেউই তাঁর জৈবিক সন্তান নন। বিষয়টি সামনে আসে, যখন বড় ছেলে জিয়াংকে আক্রমণ করে এবং বলে, “তুমি আমার বাবা নও।”

জিয়াং ২০০২ সালে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৪ এবং ২০১৪ সালে জন্ম নেয় তাদের দুই ছেলে। কিন্তু ২০২২ সালে স্ত্রীর ঘনঘন অনুপস্থিতি ও বিবাহিক সমস্যা তৈরি হওয়ায় তারা বিচ্ছেদ করেন। বিচ্ছেদের সময় সমস্ত সম্পত্তি চলে যায় প্রাক্তন স্ত্রীর কাছে, আর জিয়াংয়ের হাতে থাকে শুধু একটি গাড়ি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে জিয়াং নতুন বিয়ে করেন। নতুন স্ত্রীর সঙ্গে বাসা ফিরে আসার সময়ই তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ও দুই ছেলে সম্পত্তি দাবিতে উপস্থিত হন। গৃহস্থালি খরচ নিয়ে ঝগড়ার সময় বড় ছেলে রুনঝে জিয়াংকে ধাক্কা দেয় এবং বলে, তিনি তার বাবা নন। সন্দেহের কারণে জিয়াং রুনঝের টুথব্রাশ থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করান, যা সত্যি প্রকাশ করে। পরে ছোট ছেলেরও পরীক্ষা করানো হয় এবং একই ফলাফলের সম্মুখীন হন তিনি।

জিয়াং দাবি করেন, বড় ছেলে তাঁর গ্রামের সচিবের এবং ছোট ছেলে তাঁর চাচাতো ভাইয়ের সন্তান। হতাশ জিয়াং বলেন, “আমার প্রাক্তন স্ত্রী আমার ভীষণ ক্ষতি করেছে।” তাঁর বাবা-মাও শোক প্রকাশ করে বলেন, “যাদের আমরা ২০ বছরের বেশি সময় নাতি ভেবে লালন করেছি, তারা আসলে আমাদের রক্তের নয়। হৃদয় ভেঙে গেছে।”

আদালতে জিয়াং মানসিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ ইয়েন (প্রায় ১৪ হাজার ডলার) এবং লালন-পালনের খরচ ফেরতের দাবি তুলেছেন। যদিও বড় ছেলে পিতৃত্ব পরীক্ষার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রাক্তন স্ত্রী কেবল মানসিক ক্ষতিপূরণ মেনে নেন, কিন্তু লালন-পালনের খরচ ফেরত দিতে অস্বীকার করেছেন।

২৪ আগস্ট রুনঝে এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, আদালত জিয়াংয়ের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি, তার ভাই ও মা জিয়াংয়ের পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং নতুন জীবন শুরু করতে চান।

ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টগুলো ইতিমধ্যে ৩ কোটি বার দেখা হয়েছে। এক নেটিজেন লিখেছেন, “জিয়াং সত্যিকারের ভুক্তভোগী, ২২ বছর ধরে লালন করেছেন, অথচ শেষ পর্যন্ত কেউই তার প্রতি বিশ্বাসী হয়নি।”