ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

দক্ষিণ আমেরিকায় যুদ্ধের গন্ধ? ভেনিজুয়েলায় সৈন্য পাঠাল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রশ্ন উঠছে—তিনি কি ‘চিরন্তন যুদ্ধ’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি রাখবেন নাকি নতুন সংঘাত শুরু করবেন?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:০৯ পিএম

দক্ষিণ আমেরিকায় যুদ্ধের গন্ধ? ভেনিজুয়েলায় সৈন্য পাঠাল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রশ্ন উঠছে—তিনি কি ‘চিরন্তন যুদ্ধ’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি রাখবেন নাকি নতুন সংঘাত শুরু করবেন?

ভেনিজুয়েলা ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক অঙ্গন। ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার উপকূলে মাদক পাচার রোধের নামে বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও প্রায় চার হাজার সৈন্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

এ ঘোষণার পর থেকেই জল্পনা শুরু—এ কি তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সম্প্রতি মাদুরোকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তার গ্রেপ্তারের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। ইরনা সূত্রে আরও জানা গেছে, ট্রাম্প প্রথম মেয়াদ থেকেই মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার সাবেক রাষ্ট্রদূতও বলছেন, মাদুরোর শাসন বেশিদিন টিকবে না বলে আশা করেছিলেন ট্রাম্প।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে চিরন্তন যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি কি এবার পশ্চিম গোলার্ধেই নতুন যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছেন?

ইতিহাস বলছে, ১৯৮৯ সালে আমেরিকা পানামা আক্রমণ করে জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে উৎখাত করেছিল। তবে ভেনিজুয়েলা অনেক বড় দেশ এবং তেলসমৃদ্ধ হওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। বর্তমানে যেসব মার্কিন সেনা অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে, তা পানামা অভিযানের ২৬ হাজার সেনার তুলনায় অনেক কম। ফলে কারাকাসে সরাসরি হামলার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবুও, ভেনিজুয়েলা ঘিরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যেমন ট্রাম্প কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন—অভিবাসীদের রুখে দেওয়া কিংবা শহরে ন্যাশনাল গার্ড টহল—তেমনি ক্যারিবীয় অঞ্চলেও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে মাদুরোকে বার্তা দিচ্ছেন তিনি।

ভেনিজুয়েলার বিশেষ প্রতিনিধি এলিয়ট আব্রামস জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস ট্রাম্প সরাসরি আক্রমণ করবেন না। তবে সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিবেশী গায়ানার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে মাদুরো যদি সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিস্থিতি হঠাৎ পাল্টে যেতে পারে।

মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিওও সম্প্রতি গায়ানা সফর করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—গায়ানায় আক্রমণ বা সেখানে এক্সন মোবিলের তেল কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে মাদুরোকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। এদিকে রুবিওর আগামী সপ্তাহে মেক্সিকো ও ইকুয়েডর সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তিনি মাদক পাচার মোকাবেলায় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন।

আব্রামস আরও বলেন, যদি ট্রাম্প সত্যিই মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান, তাহলে তিনি সামরিক নয়, বরং আরও কড়া অর্থনৈতিক চাপ দেবেন। যেমন—শেভরনকে ভেনিজুয়েলায় তেল উৎপাদন শুরু করতে বাধা দেওয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন শক্তি প্রদর্শন হয়তো মাদুরোর সেনা কর্মকর্তাদের তাকে উৎখাত করতে উৎসাহিত করবে। তবে এটাও সত্যি, মাদুরো এতদিন নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ক্ষমতায় টিকে আছেন, আর এই ক্ষেত্রেও তিনি নিজেকে পারদর্শী প্রমাণ করতে পারেন।

Venezuela tension