এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:০৯ পিএম
মিয়ানমারের আরাকান আর্মি এখন পুরো সীমান্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষেই বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। ফলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে— মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, রোহিঙ্গাদের পাচার করে অর্থ সংগ্রহ করা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাফ নদী ও স্থল সীমান্তের পুরো এলাকায় তাদের সদস্যদের অবস্থান। তারা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে পরবর্তী অভিযান চালানোর জন্য অর্থ ও অস্ত্র সংগ্রহে ব্যস্ত।
সীমান্তে বিজিবি টহল ও সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরাকান আর্মির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নাফ নদী থেকে বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। গত ৫ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৩ দিনে আরাকান আর্মি ৬৩ জন জেলে ও ১০টি ট্রলার আটক করেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ২৬৭ জেলে আটক হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৯ জন ও ২৭টি নৌযান ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
২৬ আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফের নাইখংদিয়া এলাকার নাফ নদী থেকে ১১ জন জেলেকে দুইটি ট্রলারসহ আটক করা হয়। এছাড়া ২৯ আগস্ট কোস্টগার্ড ১৯টি ট্রলার ও ১২২ জেলে ফেরত এনেছে, যার মধ্যে ২৯ জন বাংলাদেশি ও ৯৩ জন রোহিঙ্গা।
কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, “রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তের বড় অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারে ঢুকলেই জেলেদের ধরে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্রপাচার রোধে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।”
টেকনাফের শাহপরী দ্বীপ ফেরিঘাট বোট মালিক সমিতির সভাপতি গফুর আলম বলেন, “নাফ নদীতে এখন আরাকান আর্মি স্পিডবোট দিয়ে টহল দেয়। তারা ধাওয়া করে জেলে ও ট্রলার আটক করে মুক্তিপণ দাবি করে। কোস্টগার্ড আরও সক্রিয় হলে হয়তো তাদের তৎপরতা থামানো যেত।”
তাদের মূল লক্ষ্য এখন জেলেদের অপহরণ ও মাছসহ অর্থমূল্যবান সামগ্রী আদায় করা। আগে তারা বন্দরের মাধ্যমে খাদ্য ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করত, এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।