এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা আরও ৩০ বাংলাদেশি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় হাতকড়া ও শেকল পরানো ছিল। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রা, সীমিত খাবার ও কঠোর নিরাপত্তা। অভিবাসীরা হতাশা ও ভয়ের মধ্যে দেশে ফিরে, মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্র্যাক সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু ট্রমা ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩০ বাংলাদেশিকে হাতে হাতকড়া ও পায়ে শেকল বাঁধা অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ ভাড়া করা বিমান অবতরণ করে। রানওয়েতে তিন ঘণ্টা থাকার পর তাদের শেকল খুলে অ্যারাইভাল গেটে আনা হয়। এই সময় কোনো বাইরের ব্যক্তি তাঁদের কাছে যেতে পারেননি বা ছবি তুলতে পারেননি। আগতদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।
বিমানবন্দরের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত দুইটার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের বিমানবন্দরে আনা হয়। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।
নোয়াখালীর ২২ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ বিমানবন্দরে বলেন, “৬০ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রায় পুরো সময় ধরে হাতে-পায়ে শেকল পরানো ছিল। দেশে ফেরার খুশি overshadowed হয়ে গেল এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে।”
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক তাঁদের বাড়ি পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত কয়েক মাসে অন্তত ১৮০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। প্রথম দিকে হাতকড়া ও শেকল না থাকলেও ২ আগস্ট ৩৯ বাংলাদেশি ফেরার সময় সবার হাতে-পায়ে শেকল ছিল।
ফেরত আসা অভিবাসীরা জানিয়েছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে, খেতে দেওয়া হয়েছিল শুধু রুটি ও পানি। টয়লেটে যাওয়ার সময় একজন অফিসার সঙ্গে যেতেন, সারার পর আবার শিকল পরিয়ে দিতেন।
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও এইচএসআইএ ইমিগ্রেশন সূত্র বলেছে, ৮ জুন ৪২ বাংলাদেশি, ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও অন্তত ৩৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরানো হয়েছে।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে ফেরত পাঠানো যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করার কারণে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে।
২০১৬ সালে ২৭ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আনা হয়েছিল একইভাবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ অভিবাসীদের হাতে-পায়ে শেকল পরিয়ে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে মানুষ অভিবাসী হতে চাইবেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা শেকল পরিয়ে ফেরত পাঠানো অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি অভিবাসীদের জন্য সারাজীবনের ট্রমা হয়ে থাকে। আশা করি ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া আরও মানবিক হবে।”