এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৯ পিএম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—ইউক্রেনে যদি কোনো পশ্চিমা সেনা মোতায়েন করা হয়, তবে তারা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। শুক্রবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি এ কথা বলেন।
পুতিনের ভাষায়, “যদি কোনো সেনা সেখানে আসে, বিশেষ করে চলমান সংঘাতের সময়, তবে আমরা তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করব।”
এর একদিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ২৬টি দেশ ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে রাজি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এই উপস্থিতি থাকবে আকাশে, সমুদ্রে আর স্থলভাগে।
পুতিন অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি রাশিয়া ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়, তবে বাইরের সেনা পাঠানোর কোনো প্রয়োজন থাকবে না। তিনি বলেন—দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য যদি চুক্তি হয়, তবে রাশিয়া তা পূর্ণভাবে মেনে চলবে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও বলেন—যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়ার জন্যও থাকতে হবে। তাঁর মতে, ন্যাটোর সম্প্রসারণ ও ইউক্রেনকে জোটে টানাই ছিল সংঘাতের অন্যতম মূল কারণ।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিনের এই বক্তব্য রাশিয়ার সাম্প্রতিক হুমকিরই ধারাবাহিকতা। এর আগে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছিলেন—পশ্চিমাদের উসকানির কারণে মস্কো তাদের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তন করছে।
একই সপ্তাহে পুতিন চীন ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়েছেন—পশ্চিমাদের বিচ্ছিন্নকরণের চেষ্টা সফল হবে না। এমনকি তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।
পুতিন বলেন, “যদি জেলেনস্কি প্রস্তুত থাকেন, তিনি মস্কোয় আসতে পারেন। আমরা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেব।”
তবে কিয়েভ এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। জেলেনস্কির মতে, রাশিয়া প্রকৃত অর্থে শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নয়, বরং সময়ক্ষেপণ করছে।
শান্তির প্রচেষ্টা চললেও যুদ্ধ কিন্তু থামছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের উত্তরে এক মাইন অপসারণ কেন্দ্রে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন মানবাধিকারকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিল।