ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজার আকাশ কাঁপিয়ে বহুতল ধস! ইসরায়েলের টার্গেটে দ্বিতীয় টাওয়ার


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:০৯ পিএম

গাজার আকাশ কাঁপিয়ে বহুতল ধস! ইসরায়েলের টার্গেটে দ্বিতীয় টাওয়ার

গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় দ্বিতীয় বহুতল ভবন ধসে পড়ল। আইডিএফ দাবি করেছে, সুসি টাওয়ার ব্যবহার করছিল হামাস, যদিও তারা অস্বীকার করেছে। এর আগে মুশতাহা টাওয়ারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, গাজায় লাখো মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে এবং হামলা অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বিপর্যয় আসতে পারে।

নিউজ আর্টিকেল:

গাজার আকাশে ফের ধ্বংসযজ্ঞ! ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার গাজা সিটির আরেকটি বহুতল ভবন সুসি টাওয়ার ধ্বংস করেছে। এ নিয়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভেঙে পড়ল বড় টাওয়ার। হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক্স-এ ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন— “আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।”

হামাসের সঙ্গে টাওয়ারের যোগসূত্র?

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দাবি করেছে, সুসি টাওয়ার ব্যবহার করছিল জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

শনিবারের হামলার আগে ইসরায়েল লিফলেট ছড়িয়ে গাজার বাসিন্দাদের দক্ষিণে অবস্থিত মানবিক অঞ্চলে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়। আইডিএফের আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন— “হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই আল-মাওয়াসিতে চলে গেছেন, আপনারাও যোগ দিন।”

আল-মাওয়াসিতে মানবিক সংকট

আইডিএফ বলছে, দক্ষিণের ওই এলাকায় খাবার, পানি ও চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে জাতিসংঘের দাবি, আল-মাওয়াসির তাঁবু শিবির ইতিমধ্যেই জনাকীর্ণ ও অনিরাপদ। হাসপাতালগুলোতেও ঠাঁই নেই।

মঙ্গলবার পানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায়। আইডিএফ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।

দ্বিতীয় বহুতল ভেঙে পড়া

সুসি টাওয়ারের আগে শুক্রবার ধসে পড়ে মুশতাহা টাওয়ার, যেটি আল-রিমাল এলাকায় ছিল। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় গাজার বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল অভিযোগ করেছেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এসব ভবনে আশ্রয় নিচ্ছিল। তিনি ইসরায়েলকে “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির নীতি” প্রণয়নের অভিযোগ করেছেন।

গাজার টাওয়ারের ইতিহাস

গাজার বহুতল ভবনগুলো শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এগুলো ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নের প্রতীক। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পর নির্বাসন থেকে অনেক ফিলিস্তিনি দেশে ফেরেন এবং উল্লম্ব সম্প্রসারণের প্রয়োজন তৈরি হয়। ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বেশিরভাগ এলাকা ছাড়ার পর এই বহুতল ভবনগুলো দ্রুত গড়ে ওঠে।

যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়

হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, গাজার পুরো অঞ্চল দখল করতে চায় ইসরায়েল।

জাতিসংঘ বলছে, এখনো প্রায় ১০ লাখ মানুষ গাজা সিটিতে রয়ে গেছে, যেখানে গত মাসে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়। হামলা অব্যাহত থাকলে আসন্ন “বিপর্যয়” এড়ানো যাবে না।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হন। এরপর থেকেই ইসরায়েলি সেনারা গাজায় তাণ্ডব চালাচ্ছে।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৬৩,৭৪৬ জন নিহত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, অপুষ্টি ও অনাহারে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৬৭ জনের।