এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৮:০৯ পিএম
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আবেগঘন মুহূর্ত—পাঁচ বছরের শহীদ ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের জীবনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব জিতে নিল মর্যাদাপূর্ণ সিলভার লায়ন পুরস্কার। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ফরাসি-তিউনিসিয়ান নির্মাতা কাউথার বেন হানিয়া, যিনি পুরস্কার গ্রহণকালে ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারের আহ্বান জানান।
এই তথ্যচিত্রে হিন্দ রজবের বাস্তব জীবনের মর্মস্পর্শী কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। গাজার ভয়াবহ যুদ্ধের সময় তিনি ও তার পরিবার শহর ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তার খালা, চাচা ও তিনজন চাচাতো ভাইবোন নিহত হন। হিন্দ গুলিবিদ্ধ গাড়িতে আটকা পড়ে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে এক ঘণ্টা ধরে ফোন করে সাহায্য চাইছিলেন। তার সেই কণ্ঠস্বর বাস্তব অডিও আকারে সংযুক্ত করা হয়েছে ছবিতে। পরে তাকে হত্যা করা হয় এবং তাকে বাঁচাতে যাওয়া দুই অ্যাম্বুলেন্স কর্মীকেও ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা করে।
ছবিটির প্রিমিয়ারে দাঁড়িয়ে ২৩ মিনিট ধরে করতালি দিয়ে দর্শকরা শ্রদ্ধা জানান। পরিচালক হানিয়া বলেন, “হিন্দের গল্প শুধু একজন শিশুর নয়, বরং গণহত্যা সহ্য করা একটি সমগ্র জাতির গল্প। সিনেমা তার জীবন ফেরাতে পারবে না, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর সারা পৃথিবীতে প্রতিধ্বনিত করবে।”
এবারের ভেনিস উৎসব যেন গাজার যুদ্ধের ছায়ায় আচ্ছন্ন ছিল। ইতিমধ্যেই ১৮,০০০ শিশু সহ ৬৪,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এই বাস্তবতা উৎসবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন পরিচালক জিম জারমুশ ফাদার মাদার সিস্টার ব্রাদার চলচ্চিত্রের জন্য গোল্ডেন লায়ন জিতেছেন। কেট ব্লাঞ্চেট, অ্যাডাম ড্রাইভার ও টম ওয়েটস অভিনীত ছবিটি পারিবারিক টানাপোড়েনের কাহিনী ঘিরে নির্মিত। পুরস্কার নিতে এসে জারমুশ গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ও বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে অবস্থান জানান।
সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন ইতালির টনি সার্ভিলো (লা গ্রাজিয়া) এবং সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন চীনের জিন ঝিলেই (দ্য সান রাইজেস অন আস অল)। সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন বেনি সাফডি (দ্য স্ম্যাশিং মেশিন)। বিশেষ জুরি পুরস্কার জিতেছেন ইতালির জিয়ানফ্র্যাঙ্কো রোজি তার ডকুমেন্টারি বিলো দ্য ক্লাউডস-এর জন্য।
এবারের ভেনিস উৎসব শুধু পুরস্কার বিতরণ নয়, বরং গাজার মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি বিশ্ব শিল্পীদের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছে। একের পর এক বিজয়ী গাজায় যুদ্ধবিরতি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।