এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
নেপালে দুর্নীতি ও জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জ্বলে উঠেছে ‘জেন-জি’ আন্দোলন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়িয়েছে যে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে প্রকাশিত দ্য হিমালয় টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী। গুরুতর আহতদের অনেককে রাজধানী কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভেঙে সংসদ ভবনের কাছের সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়লে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাঠমান্ডুর বানেশ্বর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন। প্রধান জেলা কর্মকর্তা ছবি রিজালের সই করা ঘোষণায় বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসন আইন ২০২৮-এর ৬(এ) ধারা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবসহ মোট ২৬টি সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এর প্রতিবাদেই এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর বানেশ্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ অল্প সময়েই পুরো কাঠমান্ডুতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী নামায় সরকার। ইতোমধ্যে পুলিশ ও সেনার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
সব মিলিয়ে নেপাল এখন এক ভয়াবহ অস্থিরতার মুখে, যেখানে জনগণের ক্ষোভ আর সরকারের কঠোর দমননীতি দেশটিকে রক্তাক্ত আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।