এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
ফরাসি পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে পদচ্যুত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বেয়রু। সোমবারের এই ভোটে দেশটি নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়ল। অর্থনৈতিক চাপ আর ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় ফ্রান্স এখন কার্যত সরকারহীন অবস্থায়।
আস্থা ভোটে কী ঘটল?
বেয়রু সংসদে হাজির করেছিলেন ৪৪ বিলিয়ন ইউরোর সঞ্চয় পরিকল্পনা, যেখানে সরকারি ব্যয় স্থগিত ও দুটি ছুটি বাতিলের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু এর বিপরীতে দাঁড়ালেন অধিকাংশ আইনপ্রণেতা।
৩৬৪ ভোট পড়েছে তাঁর বিরুদ্ধে
১৯৪ ভোট গেছে পক্ষে
প্রয়োজনীয় সীমা ছিল মাত্র ২৮০ ভোট
অর্থাৎ বেয়রুর পতন অনেকটা নিশ্চিত হয়েই গেছে।
মাত্র ৯ মাসের সরকার
গত ডিসেম্বরেই অনাস্থা ভোটে বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁর পূর্বসূরি মিশেল বার্নিয়ারকে। এবার মাত্র ৯ মাসের মাথায় একই পরিণতি হলো বেয়রুর। মঙ্গলবার সকালেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা
বেয়রুর পতনে হতাশ বিনিয়োগকারীরা। ফরাসি সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে গেছে স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসের চেয়েও বেশি—যে দেশগুলো একসময় ইউরোজোন ঋণ সংকটের কেন্দ্র ছিল। এদিকে ফ্রান্সের ঋণ রেটিং অবনমন হলে ইউরোপে অর্থনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
বেয়রুর সতর্কবার্তা
ভোটের আগে তিনি বলেন—
“সরকারকে পতন করানো সম্ভব, কিন্তু বাস্তবতা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। খরচ বাড়তেই থাকবে, ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সামাজিক চুক্তি ভেঙে ফেলেছি।”
মাখোঁর সামনে কঠিন সময়
এলিসে প্যালেস জানিয়েছে, শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবেন। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এবং বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন।
তবে মাখোঁর সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বড়। কারণ, তিনজন ব্যর্থ মধ্যপন্থী প্রধানমন্ত্রীর পর বিরোধীরা আর কাউকে সহজে মেনে নিতে রাজি নয়। অতি-ডান ও অতি-বাম দল ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে—নতুন মধ্যপন্থী প্রধানমন্ত্রী আসলে তারা আবার অনাস্থা আনবে।
এদিকে মেরিন লে পেন সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। তবে সেটা হলে ফ্রান্সের রাজনীতিতে অতি-ডানপন্থীদের শক্তি আরও বাড়বে, আর পার্লামেন্ট আরও অচল হয়ে পড়বে।