এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
দিল্লির সাউথ ব্লকের এককোণে বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর চিন্তায় নিমগ্ন। লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. ইউনুস ও তার কার্যক্রম। শুধু ব্যক্তিগত নয়, ভারতের ভূরাজনীতি ও কূটনৈতিক কৌশলও এখন প্রশ্নের মুখে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও কেরালায় তরুণদের মধ্যে বিরোধী মনোভাব বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রফেসর ইউনুসের নতুন শক্তি মোদির কূটনৈতিক কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করছে। মিডিয়া ও কূটনৈতিক মহল দেখছে, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা রক্ষায় মোদি সরকার অতিরিক্ত সক্রিয়।
ইন্ডিয়া টুডে সমীক্ষায় দেখা গেছে, মোদির জনপ্রিয়তা ২০২১-এ ৭০% থেকে কমে ২০২৫-এ ৫৮%-এ নেমেছে। ৯২% মানুষ মনে করছে সংসার চালানো কঠিন, ৭২% বেকারত্বকেই প্রধান সমস্যা মনে করছে। অর্ধেক ভারতীয় মনে করছেন, গণতন্ত্র ঝুঁকিতে আছে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের জন্য ন্যূনতম লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছেন। কংগ্রেস শক্তিশালী হওয়ায় বিরোধী জোট “ইন্ডিয়া অলায়েন্স” মোদির বিরুদ্ধে জোরালো কণ্ঠ তৈরি করেছে। প্রফেসর ইউনুস ইস্যুতে মোদির অতিরিক্ত সক্রিয়তা আন্তর্জাতিক ইমেজে প্রভাব ফেলেছে।
পশ্চিমা মিডিয়া যেমন ফ্রান্সের লা মন্ডে, যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও জার্মানির ডার ইয়্যার স্পিগেল মোদির শাসন ও মানবাধিকার রেকর্ড সমালোচনা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতিহাস দেখিয়েছে অন্যায় চাপ দিয়ে মানুষকে দমন করা যায়, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মোদি সরকার যদি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়, প্রফেসর ইউনুস ও বাংলাদেশের প্রভাব ভারতের কূটনৈতিক কৌশলে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।