এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
নেপালে চলছে তুমুল রাজনৈতিক অস্থিরতা। ‘নেপো কিডদের’ বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। পদত্যাগের আগে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং নিরাপদে দেশ ছাড়ার জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা চান।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে গোপন ফোনালাপ
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল সরাসরি অলিকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন। অলিও অনুরোধ করেন, সেনাবাহিনী যেন দেশের ক্রমাবনত পরিস্থিতি সামলাতে নেতৃত্ব দেয়। তবে জেনারেল সিগদেল স্পষ্ট করে দেন—সেনা তখনই এগোবে, যদি অলি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়েন।
দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা ও সেনার প্রস্তুতি
সূত্র বলছে, অলি চিকিৎসার অজুহাতে দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এজন্য বেসরকারি বিমানসংস্থা হিমালয়া এয়ারলাইনসকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অলির মন্ত্রীরা ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে নিজেদের বাসভবন থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছে যাচ্ছেন। অন্তত পাঁচটি হেলিকপ্টার এই কাজে নিয়োজিত। কাঠমান্ডু, ললিতপুর ও ভক্তপুরে কারফিউ চলাকালেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রীদের রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নেওয়া
কাঠমান্ডুর দক্ষিণের ভৈশেপাটির মন্ত্রী আবাসন এলাকা থেকে এক ডজনেরও বেশি সেনা হেলিকপ্টার ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে গেছে। মন্ত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে রাতের অন্ধকারেই।
বিমানবন্দরে চরম উত্তেজনা
এই মুহূর্তে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তুঙ্গে। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে আহ্বান জানাচ্ছেন বিমান চলাচল ব্যাহত করার জন্য। আতশবাজি ফোটানো, ড্রোন ওড়ানো, এমনকি বিমানের দিকে লেজার লাইট দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে তারা উৎসাহিত করছেন।
পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে তা নিয়ে নেপাল এখন দমবন্ধ উত্তেজনায় অপেক্ষা করছে।