এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:০৯ পিএম
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর কোটেশ্বরে ভয়াবহ সহিংসতায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আত্মসমর্পণের পরও আন্দোলনকারীরা তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রথমে বিক্ষুব্ধরা কোটেশ্বর পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগ চালায়। এরপর আত্মসমর্পণ করা কর্মকর্তাদের টেনে বাইরে এনে রাস্তা পার পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, তবুও জনতা তাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
নেপালের পুলিশ সদর দপ্তর (নাক্সাল) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং এটিকে ‘বর্বরোচিত হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির ইঙ্গিত বহন করছে।
কাঠমান্ডুতে নতুন আতঙ্ক
কোটেশ্বর পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা রাজধানীজুড়ে বাড়তে থাকা সহিংসতার মধ্যে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতাদের বাসভবন ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চলছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে।
সেনাবাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ
নেপালে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংস পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তারা জানায়—যদি সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ অব্যাহত থাকে, রাত ১০টা থেকে সেনা ও সব নিরাপত্তা সংস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হবে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বসনেত বলেন, কিছু গোষ্ঠী সংকটকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ নাগরিক ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। যদি এটি বন্ধ না হয়, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা রাত ১০টার পর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্র রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং নাগরিকদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া লুট হওয়া অস্ত্র-শস্ত্র ফেরত দেওয়ার জন্য আলটিমেটামও দেওয়া হয়েছে। মুখপাত্র বলেন, “যারা অস্ত্র লুট করেছে, রাত ১০টার মধ্যে তা ফেরত দিতে হবে।”
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভকারীদের সহিংস পথ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান।